দিঘা মোহনায় ইলিশের জোয়ার, একদিনেই উঠল ৪০ টন, সস্তায় ইলিশ কিনতে হুড়োহুড়ি পর্যটকদের

Spread the love

প্রতিবেদন: ভরা বর্ষায় রবিবার ছুটির দিনেও পর্যটকে ভর্তি সৈকত নগরী দিঘা। তার মধ্যে খুশির খবর, উঠছে টন টন ইলিশ। টাটকা ইলিশে ভরে গিয়েছে দিঘা মোহনার মৎস্যবন্দর। রবিবার সকাল থেকেই মোহনায় রুপোলি শস্যের জোয়ার একের পর এক লঞ্চ ও ট্রলার ঘাটে ফিরতেই মাছের আড়তগুলিতে শুরু হয় তৎপরতা। শুরু হয়ে যায় ইলিশের নিলাম। টন, টন ইলিশ। এদিন দিঘা মোহনার পাইকারি বাজারে প্রায় ৪০ টন ইলিশ এসে পৌঁছয়। মাঝারি ও ছোট আকারের পাশাপাশি দেখা মিলেছে বড় আকারের ইলিশও। এত ইলিশ আসায় বিক্রেতারা আশাবাদী দাম কিছুটা কমবে। এদিন পর্যটকরাও এই সুযোগে সস্তায় দেদার ইলিশ কিনলেন।

এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইলিশের দেখা মিললেও কয়েকদিনের মধ্যেই কমে যায় জোগান। তার উপর জয় মা কালী ট্রলার দুর্ঘটনা এবং প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কিছুদিন সমুদ্রে যেতে পারেননি মৎস্যজীবীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই ফের সমুদ্রে ভাসে লঞ্চ ও ট্রলার। আর তাতেই বাজিমাত। রবিবার নিলামে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে কেজি প্রতি ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকা। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা কেজি দরে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল কেজি প্রতি ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইলিশ বাজারে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামীদিনে ইলিশের জোগান আরও বাড়বে। জোগান বাড়লে দামও কিছুটা কমবে। ফলে মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি ইলিশপ্রেমীরাও উপকৃত হবেন। ট্রলারমালিকরা বলছেন, বর্ষা নামতেই ভালো পরিমাণ ইলিশ জালে উঠছে। এক একটি ট্রলার আড়াই টন পর্যন্ত ইলিশ নিয়ে ফিরছে। দিঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা বলছেন, ব্যান পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর প্রথম দিকে সমুদ্রে গিয়ে তেমন ভাবে ইলিশ মিলছিল না। তবে পরের দিকে কয়েকটি ট্রলারে ২৫ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত ইলিশ উঠেছে। তাদের হিসেবে রবিবার সমুদ্র থেকে ফেরা লঞ্চ ও ট্রলারগুলি থেকে প্রায় ৪০ টন ইলিশ বাজারে এসেছে। ফলে খুশি তারাও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*