পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানো হল কৃষ্ণনগর পুরসভায়

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর:

কৃষ্ণনগর পুরসভার কার্যকলাপ নিয়ে অবশেষে বিস্ফোরক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিনের নাগরিক ক্ষোভ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসানো হল শহরের পুরসভায়। রাজ্যের পাঠানো চিঠিতে সরাসরি বলা হয়েছে— “পুরসভা পরিচালনায় কাউন্সিলাররা অযোগ্য”— যা কার্যত এক নজিরবিহীন সমালোচনা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত এক বছরে তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শহরের নাগরিক পরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। জল সরবরাহ, নিকাশী ব্যবস্থা, আবর্জনা অপসারণ— সব ক্ষেত্রেই দেখা দেয় শোচনীয় অদক্ষতা। রাজ্য সরকারের পরিদর্শন রিপোর্টে উঠে আসে, পুরবোর্ড কার্যত অচল। বাজেট পাশ না হওয়া, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষমতা, আর্থিক অনুমোদনের জটিলতা— সব মিলিয়ে পুরসভার কাজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

রাজ্যের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বোর্ড অফ কাউন্সিলররা আইন অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে, নাগরিক পরিষেবার মৌলিক দিক— পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা মেরামত, নিকাশিপরিষ্কার, অভিযোগ নিষ্পত্তি— সব ক্ষেত্রেই ভাঙন দেখা গেছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যের এই কড়া অবস্থান আসলে একধরনের ‘বার্তা’। তৃণমূল কাউন্সিলারদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অদক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে ক্ষোভ ছিল। বিশেষ করে, গত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর শহরে তৃণমূলের ফল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক— শহরের প্রায় সব ওয়ার্ডেই দলের প্রবীণ কাউন্সিলাররা পরাজিত হন। সেই ব্যর্থতার দায়েই এবার পুরবোর্ড ভাঙার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে বলে ধারণা।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “এটা নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকার চাইছে নাগরিক ক্ষোভের দায় থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে। তাই কাউন্সিলারদের অযোগ্যতা সামনে এনে পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো একরকম রাজনৈতিক দায়মুক্তির কৌশল।”

তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টি অন্যভাবে দেখছে। কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল সভাপতি সৌমাল্য ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের কাউন্সিলাররা আগেও দলের হয়ে কাজ করেছেন, এখনো করছেন। কিছু সমস্যা ছিল, আমরা সেটা মিটিয়ে নিচ্ছি। আগামীদিনে কৃষ্ণনগরে তৃণমূল ফের ভালো ফল করবে— আমি নিশ্চিত।”

অন্যদিকে বিজেপি কটাক্ষ করেছে শাসকদলকে। কৃষ্ণনগর শহরের বিজেপি নেত্রী ও প্রাক্তন কাউন্সিলার বর্ণালী গুইন দত্ত বলেন, “আমরা মানুষের ভোটে জিতে এসেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের নিজের দলের কোন্দল শহরের উন্নয়নকে পঙ্গু করেছে। আজ রাজ্যের সিদ্ধান্ত আসলে সেই ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি। আসন্ন বিধানসভা ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে।”

শহরের রাস্তায়, দোকানে, আড্ডাঘরে এখন একটাই আলোচনা— রাজ্যের ‘অযোগ্য’ তকমা প্রাপ্ত পুরবোর্ডের পতনের পর প্রশাসকের হাতে কৃষ্ণনগরের নাগরিক পরিষেবা কতটা পুনরুজ্জীবিত হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*