নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর :
কৃষ্ণনগর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি একটি রাস্তা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে চলা মামলার অবসান ঘটাল আদালত। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির উপর পুরসভার তৈরি করা সেই রাস্তা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কৃষ্ণনগর আদালত।
ঘটনাটি ২০১৬ সালের শুরুর দিকের। স্থানীয় মুতি শেখ লেনের ওই ঢালাই রাস্তা তখনকার কাউন্সিলার বুলবুল সরকার-এর উদ্যোগে তৈরি হয়। অভিযোগ, রাস্তাটি পুরসভার নকশা ও অনুমোদন মেনে তৈরি হলেও যে জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির উপর পড়ছে, তা তখন পুরসভার জানা ছিল না। পরবর্তীতে জমির মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন, এবং শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। প্রায় ১০ বছর পরে আদালত পুরসভাকে সেই রাস্তা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পুরনো কাউন্সিলার বুলবুল সরকার বলেন, “রাস্তাটি আগে থেকেই ছিল, শুধু ভেঙে গিয়েছিল। স্থানীয় মানুষজন অনুরোধ করায় পুরসভার তহবিল থেকে সেটি সংস্কার করানো হয়। তখন জানতাম না, জায়গাটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। পরে জানতে পারি মামলা হয়েছে। এখনও রাস্তাটির অবস্থা তেমন ভালো নয়।”
অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। আদালতের রায় যদি এসে থাকে, তা হলে আইন অনুযায়ী সেই নির্দেশ মেনে পুরসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, এই রাস্তা বহু পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথ। আদালতের নির্দেশ মানতে গিয়ে রাস্তা ভেঙে দিলে সমস্যা বাড়বে। অন্যদিকে জমির মালিক দাবি করেছেন, “নিজের জমি ফেরত পাওয়া আমার সাংবিধানিক অধিকার।”
আইনগত নির্দেশে এখন প্রশাসনের ওপর চাপ স্পষ্ট। একদিকে আদালতের রায় মানার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নাগরিক অসুবিধা— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে কৃষ্ণনগর পুরসভার সামনে নতুন দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

Be the first to comment