সুস্মিতা রায় : নারী শিক্ষা, প্রগতি, জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। আজ রোকেয়ার জন্মদিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মাহমুদুল হাসান সমাজ মাধ্যমে লেখেন, “আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।” তাঁর এই চরম অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রাক্তন শিক্ষার্থী এস এম আতিক তাঁকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে লেখেন, ৫ আগস্ট আমাদের বাক স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। এর সুবাদে পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষকও এখন ফতোয়া দিতে পারেন।
রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, সবারই নিজস্ব মতামত থাকে, তার মাপকাঠিও আলাদা। তবে এই ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে না বলাই ভাল বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিন বিশ্বাস এষা এই মন্তব্যর সমালোচনা করে বলেন, বেগম রোকেয়া পুরো উপ মহাদেশেই নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসাবে স্বীকৃত। ওঁর জন্যই এখানকার নারীরা বর্তমানে পড়াশোনা, রাজনীতি সহ সব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন।তাঁকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য সমগ্র নারী সমাজকেই হেয় করা। এই মন্তব্য কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না।
মন্তব্যকারী অধ্যাপকের কথায়, যে পোস্টের ক্যাপশনে তিনি এই মন্তব্য করেছেন, সেখানেই সব দেওয়া আছে।
উল্লেখ্য, উপমহাদেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় বেগম রোকেয়ার জন্মদিন ও মৃত্যুদিনে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর রোকেয়া পদক দেন।
১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর এর পায়রান্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার জন্ম। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, পণপ্রথা, ধর্মের নামে নারীদের ওপর অত্যাচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ এখনও অম্লান। আমৃত্যু নারীদের সমান অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন এই মহীয়সী শিক্ষাবিদ, লেখক।
১৯৩২ সালে কলকাতার সোদপুরে তাঁর জীবনাবসান। হয়। সুলতানার স্বপ্ন, মতিচূর, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি কালজয়ী বই-এ তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে এই মন্তব্য বাংলাদেশে শুধু না, এই বাংলার বহু মানুষকেও মর্মাহত করেছে।

Be the first to comment