রোজদিন ডেস্ক : টিএমসি-র শাসনে রাজ্যে বামেদের আমল থেকে ও পরিস্থিতি খারাপ। এই জঙ্গলরাজ থেকে বাঁচতে রাজ্যে বিজেপিকে আনুন বলে করজোড়ে আহবান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, এখানকার শিশুরাও বলছে তারা বাঁচতে চায়, বিজেপিকে চায়।
আজ দমদম বিমানবন্দর থেকে অডিও বার্তায় তাহেরপুরের জন সমাবেশের উদ্দেশ্যে এই সব বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী বছর রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের এখন ও মাস চারেক বাকি। চলতি বছরের শেষ প্রান্তে এসে
রাজ্যে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। ঘন কুয়াশার জেরে নদীয়ার তাহেরপুরের জনসভায় তাঁর হেলিকপ্টার অনেক চেষ্টা করে ও নামতে পারেনি, বাধ্য হয়েই তিনি ফিরে আসেন বিমানবন্দরে। তাঁর সভায় যোগ দিতে গিয়ে মর্মান্তিক ভাবে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিন বিজেপি সমর্থক। এখানেও খলনায়ক কূয়াশা।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন।
গত মাসেই প্রতিবেশী বিহারে বিপুল ভাবে জয়ী হয়েছে তাঁদের জোট। সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,গঙ্গা বিহার থেকে এখানে আসে, ওখানে তাঁদের জয়ের রেশ এখানেও পৌঁছোবে বলে তাঁর আশা। ত্রিপুরাতেও বাম সরকারকে হঠিয়ে বিজেপির সরকার এসেছে। সেখানেও প্রভূত উন্নয়নের জোয়ার এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজ্যে এসআইআরের আবহে তাঁর এই সফর নিয়ে কৌতুহল ছিল সব মহলেই। বিশেষত মতুয়াদের গড় বলে পরিচিত এই অঞ্চলের বহু মানুষ সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।
আজ সরাসরি মতুয়াদের নিয়ে তেমন কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী। হরিচাঁদ ঠাকুর, বড়মাকে প্রণাম জানান। বলেন, তিনি আবার আসবেন। তাঁর আগমন নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছিল টিএমসি। ধ্বনি উঠেছিল, গো ব্যাক মোদিজি । ঝানু রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়েও মুখ খোলেন। বলেন, তাঁকে ফিরে যেতে বলছেন যাঁরা, তাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের ফিরে যেতে বলেননা কেন?? রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, যে অনুপ্রবেশ কারীরা এই রাজ্যকে কজা করবে ভাবছে, তাদেরই পছন্দ টিএমসি-র। এটাই ওদের আসল চেহারা। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকারে সুফল বর্ণনা করেন তিনি। বলেন, একবার রাজ্যের মানুষ তাঁদের সুযোগ দিন, উন্নয়ন হবেই হবে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় তাহেরপুরের জনসভায় সশরীরে না যেতে পেরে তিনি যে দুঃখিত তা জানিয়ে বলেন, যখন ওখানে তিনি নিজে যাবেন, আরও কথা বলবেন। আবহাওয়াতেও যাঁরা রাজনীতির রঙ ছড়ান, তিনি তাঁদের মত না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আবার আসবেন, বারবার আসবেন। এখানকার মানুষের স্বপ্ন পূরণই তাঁর লক্ষ্য বলে বার্তা দেন।
বলেন, তৃণমূল তাঁর, বিজেপির বিরোধিতা করতে চাইলে বারবার, হাজার বার করুক, কিন্তু রাজ্যের উন্নয়ন কেন আটকানো হবে প্রশ্ন তোলেন। আবেগের সুরে বলেন, রাজ্যের মানুষকে নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন কেন?? এখানকার মানুষকে দুঃখ দিয়ে পাপ করবেন না।
রাজ্যের উন্নয়নে টাকার কোন অভাব নেই জানিয়ে রাজ্য সরকারকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে এমন সরকার যারা সব কাজেই কমিশন চায়। রাজ্যের বিকাশ, উন্নয়নের জন্যই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আটকে আছে বলে মন্তব্য করেন।
মাত্র কয়েকদিন আগে লোকসভায় বন্দেমাতরম নিয়ে আলোচনা কালে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জিকে “বঙ্কিম দা” বলে বিড়ম্বিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, আজ বন্দে মাতরমের প্রদঙ্গ তুলে বন্দে মাতরম এর রচয়িতাকে “বঙ্কিমবাবু”, ঋষি বঙ্কিমবাবু বলে শ্রদ্ধা জানান। বলেন, বাংলা ভাষা দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ করেছে। বন্দে মাতরমের মাধ্যমেই দেশে স্বাধীন তার মন্ত্র, নতুন চেতনা তৈরি হয়েছে। এখন বিকশিত ভারতের প্রেরণাও বন্দেমাতরম বলে জানান তিনি।
বিহার নির্বাচনে র আগে ওই রাজ্যে একাধিক নয়া প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন প্রধান মন্ত্রী। আজ ও নদীয়ায় দুটি বড় মাপের সড়ক তৈরির ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ আর ও সহজতর হবে বলে জানান।
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে ক্ষমতা দখলকে তাঁরা যে পাখির চোখ করেছেন তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে। এই লক্ষ্যে তিনি যে আবার আসবেন, বারবার আসবেন, উন্নয়নের স্বপ্নের আলপনা আঁকবেন তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

Be the first to comment