রোজদিন ডেস্ক : ১ জানুয়ারি দিনটি স্টুডেন্ট ডে হিসেবে পালিত হয়ে আসছে এই রাজ্যে। এছাড়া এইদিনেই শুরু স্টুডেন্ট উইক। এই উপলক্ষে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রছাত্রীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পোস্টে তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারে কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন। একের পর প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের পড়ুয়াদের পাশে কীভাবে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার, তারও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিপুল কর্মযজ্ঞের কথাও বিস্তারিত ভাবে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন—
“রাজ্যের সকল ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষিকাদের জানাই ‘স্টুডেন্টস ডে’ তথা আজ ‘স্টুডেন্টস উইক’-এর সূচনার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
২০২২ সাল থেকে বছরের এই প্রথম দিনটিকে আমরা ‘স্টুডেন্টস ডে’ হিসেবে এবং বছরের প্রথম সপ্তাহকে ‘স্টুডেন্টস উইক’ হিসেবে পালন করছি। এইভাবে বছরের প্রথম সাতটি দিন আমরা আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। দেশগঠনে ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকাকে সম্মান জানিয়েই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ছাত্রজীবন জীবনের অন্যতম সেরা সময়। আমি চাই সব ছাত্রছাত্রীরা যেন জীবনের এই অমূল্য সময়টাকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারে। তাই আমরা চালু করেছি বিভিন্ন স্কলারশিপ ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা।
চালু করা হয়েছে ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজ সাথী’, ‘ঐক্যশ্রী’ ও সংখ্যালঘু স্কলারশিপ, ‘শিক্ষাশ্রী’, ‘মেধাশ্রী’, ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিন্স’, ‘তরুণের স্বপ্ন’, ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’, বিনামূল্যে স্কুলের বই, ড্রেস, জুতো, ব্যাগ যা এখন সারা দেশের মডেল। এই সব প্রকল্পে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা সব মিলিয়ে ২৭.৪৬ কোটিরও বেশি বেনিফিট পেয়েছে। এর জন্য আমাদের রাজ্য সরকার খরচ করেছে প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা।
এর বাইরে রাজ্যে শিক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নে আমাদের সরকার খরচ করেছে ৬৯,০০০ কোটি টাকা। ২০১১ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নার্সিং কলেজ, বি এড কলেজের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে হাজারেরও বেশি। ৭ হাজারেরও বেশি নতুন স্কুল, ২ লক্ষেরও বেশি অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষ। রাজ্যে বহু বাংলা মাধ্যম স্কুলের পাশাপাশি ৩৮২টি সাঁওতালি মিডিয়াম স্কুল করা হয়েছে। ২০০টি রাজবংশী ও কামতাপুরী মিডিয়াম স্কুল হচ্ছে। এছাড়া, ৪ হাজারেরও বেশি ইংরেজি/ হিন্দি/ উর্দু/ নেপালি/ উড়িয়া/ তেলুগু মিডিয়াম স্কুল চলছে। সমস্ত স্কুলে পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০০% স্কুলে মিড-ডে-মিল চালু করা হয়েছে।

এ সবের ফলে ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে কোনো স্কুলছুটও নেই। এটা আমাদের বিরাট সাফল্য।
এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রীদের ভালোর কথা ভেবে আমরা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন এনেছি। নতুন নতুন বিষয় যেমন Artificial Intelligent, Machine learning, Data Science ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেমিস্টারও চালু করা হয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়াকে সরলীকরণের লক্ষ্যে Centralized Admission Portal চালু করেছি।
আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের মতো করে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের কথা আগে কেউ কখনো ভাবেনি। আগামীদিনেও যে কোনও দরকারে আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকবো।”

Be the first to comment