রোজদিন ডেস্ক : লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজবাদী দল, ডিএমকে-সহ এই প্রস্তাবে ১১৮ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা যায়। লোকসভার মহাসচিব উৎপল কুমার সিংকে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন টিএমসি স্বাক্ষর করেনি কেন তা ব্যাখ্যা করে দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জি জানান, এই প্রস্তাব আনার আগে অধ্যক্ষকে একটা চিঠি দেওয়া যেত। যে সাংসদরা সাসপেন্ড হয়েছেন আগে তা প্রত্যাহার হোক, অধ্যক্ষকে আর ও ২/৩ দিন সময় দিলে ভাল হোত বলে তিনি জানান। অন্য বিরোধী নেতারা অবশ্য দেরি না করে এই অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার পক্ষে মত দেন, সেই অনুযায়ী তা আলোচনার দাবিতে জমা দেওয়া হয়।
আজও সংসদে তুমুল হট্টগোলের প্রেক্ষিতে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।
লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষে বিঁধে বলেন, “মোদিজি কিসের থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন? কিতাব থেকে। হাউস থেকে। সত্যর থেকে।”
সংসদ চত্বরে রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনা প্রধান এম এম নারাভানি কে উদ্ধৃত করে বলেন, উনি তাঁর লেখা বই পড়তে বলছেন।।প্রাক্তন সেনা প্রধান, বইটির প্রকাশনা সংস্থাকে তিনি বিশ্বাস করেন।
সংসদ চত্বরে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের ব্যানারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, এপস্টাইনই হোক, বা বাণিজ্য চুক্তি, এই সবই দেখা যাচ্ছে।
প্রাক্তন সেনা প্রধান এম এম নারাভানির বই থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথম দিনই তুমুল বাধা পেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। যা নিয়ে সংসদ উত্তাল হয়। একদিকে বিরোধীদের দাবি, কেন তাঁকে পড়তে দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকার পক্ষও কিছুতেই তা পড়তে দেবেন না, অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আবার যা অন্যতম মূল কারণ। এর সঙ্গে ভারতের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি, প্রধানমন্ত্রী কেন সভায় আসছেন না, তা নিয়ে বিরোধী পক্ষের মহিলা সাংসদদের নিশানা করা ইত্যাদি সবই যুক্ত হয়েছে। অধ্যক্ষ ওম বিড়লা আজ এখন অবধি সভায় না আসায় বিরোধী পক্ষ ক্ষুব্ধ।
উল্লেখ্য, আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি অবধি এই অধিবেশন চলার কথা। পরে এপ্রিল মাসে ফের বসবে।
বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী আরও বলেন, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের লেখা বইটি অনলাইনেও বিক্রি হয়েছে, যে কেউ তা কিনতে পারেন।
বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিরোধিতায় মুখর হয়েছেন সরকার পক্ষে মন্ত্রী সদস্যরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী অধিবেশন চালাতে বাধা দিচ্ছেন। অন্য বিরোধী সদস্যদেরও বলার সুযোগ দিচ্ছেন না। অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

Be the first to comment