রোজদিন ডেস্ক :
তিনি ছিলেন স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী, তৃণমূল সরকারের বাজেটও তিনিই পেশ করতেন বিধানসভায়। আজ দলের সব পদ, দায়িত্ব ছেড়ে সেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানালেন, বাজেটে কি থাকতো তিনি জানতেন না। তবে কে তৈরি করতেন বাজেট? চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, হয়ত দিদিই করতেন সব! তাঁর এই বিস্ফোরক বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পরিস্কার বলেন, তাঁর আনুগত্য, বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাতেই তিনি দলের সব পদ, দায়িত্ব ছাড়লেন। যদি ডাক আসে আবার ফিরবেন কি? এই প্রশ্নে জানিয়ে দেন, ফেরার কোন ব্যাপার নেই। যেখানে বিশ্বাসযোগ্যতা, আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে আর ফেরা যায় না।
তবে তিনি এই সঙ্গে জানিয়ে দেন, কারও ওপর তাঁর কোন অভিযোগ নেই। দিদিকে (মমতা ব্যানার্জি) কে তিনি শ্রদ্ধা করেন। নিজের ওপরেই তাঁর অভিযোগ।

গতকাল ঋতব্রত ব্যানার্জি ও তাঁর অনুগামীরা যখন তৃণমূল ভবনে যান, সেখানে তাঁদের দেখা মাত্র কেন তিনি বেরিয়ে গেছিলেন, খোদ নেত্রী এই প্রশ্ন তুলেছেন বলে সুত্রের খবর। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নিজেই আজ বলেন, তিনি বিদ্রোহীদের হাতে তৃণমূল ভবন ছেড়ে দিয়েছেন বলে কথা উঠেছে। কিন্তু তিনি প্রতিদিন যেমন যান, যে সময় চলে আসেন, গতকালও তাই করেছিলেন বলে দাবি করেন। দৃশ্যত অভিমানী নেত্রী বলেন, দলের বিশ্বাস, আনুগত্য রুখতে তিনি নিজেই ব্যর্থ। বিশ্বাসই হোল মূল শিকড়।
পুত্র সৌরভ বসুর সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর কোন কথা হোত না বলে দাবি করেন। ঋতব্রত ব্যানার্জির ডাকা নভোটেল হোটেলে ছেলের যাওয়া নিয়েই তিনি জানতেন না।
তিনি এখন কোন শিবিরে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, এই সব তিনি জানেন না। অনেক কিছুই বিচারাধীন, এর মধ্যে তিনি ঢুকতে চান না। তাঁর পরবর্তী গতিপথ কি হবে প্রশ্নে বলেন, সময় নিজের গতিতে চলে, এই নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না।
এর কিছুক্ষণ পর তিনি বিধানসভা ভবনে যেতেই তাঁকে সাদরে স্বাগত জানান বিদ্রোহী শিবিরের সন্দীপন সাহা। তাঁর সঙ্গেই ঋতব্রত ব্যানার্জিদের ঘরে গিয়ে বসেন তিনি। তাঁর ও গতিপথ যে এই শিবির তা পরিস্কার হয়ে গেল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অবশ্য জানান, তাঁর প্রাপ্য টাকার বিষয়ে তিনি এসেছেন। দীর্ঘদিন মমতা ব্যানার্জির প্রায় ছায়া সঙ্গী হয়ে ওঠা অনুগত, বিশ্বাস ও আস্থাভাজন এই নেত্রীকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধেছেন মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলেন, এতদিন যখন উনি সব গুরুত্বপূর্ণ পদ, দায়িত্বে ছিলেন, তখন ওঁর কিছু অভিমান হয়নি! এখনই সব হোল!!

Be the first to comment