রোজদিন ডেস্ক : ২৮ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। শুক্রবারের পর তা মোটামুটি নিশ্চিত। ফলে বাংলা জুড়ে এখন নির্বাচনের প্রহর গোনা শুরু। এক না দুই, নাকি তিন, ক’দফায় ভোট এই আলোচনাকে ছাপিয়ে এখন সামনে প্রার্থীদের নাম। কারা টিকিট পাচ্ছেন, আর কাদের কপাল পুড়ছে, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। সূত্রের খবর, রাজ্যের শাসক দলের প্রার্থী তালিকা কার্যত রেডি। ৯৫ শতাংশ আসনেই নাম চূড়ান্ত। দু’চারটে খুচখাচ বাকি। সে সব আর ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মিটে যাবে। ২৯৪ আসনের প্রার্থী তালিকায় এবার বড়সড় পরিবর্তন থাকছে। সৌজন্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাকের প্রতীক জৈন। এই দুই ফ্যাক্টরেই কপাল পুড়তে চলেছে অনেকের। উল্টোদিকে কপাল খুলতে চলেছে কারও কারও। সূত্র মারফত যা জানা যাচ্ছে, তাতে এবারের তালিকায় নিঃসন্দেহে বাড়ছে সংখ্যালঘু মুখ। সেই সঙ্গে থাকছে বদল। সবমিলিয়ে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে থেকে বাদ পড়তে চলেছেন ৫০ জনের কাছাকাছি। তাঁরা কারা? সূ্ত্রের খবর বাদ যেতে পারে এবার দুই জেলা মুর্শিদাবাদ ও হুগলিতে। একাধিক জেতা প্রার্থী বদল করবে দল। প্রথমদিকে নাম রয়েছে, কাঞ্চন মল্লিক, রত্না দে নাগ, তপন দাসগুপ্ত, অসিত মজুমদার, মনোরঞ্জন ব্যাপারি, স্বাতী খন্দকারের মতো বিধায়করা। মুর্শিদাবাদেও একাধিক মুখ বদল হওয়ার সম্ভাবনা। এছাড়া মোটামুটি বাদের তালিকায় আছেন দূ্ুর্নীতিতে অভিযুক্তরা। যেমন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মাণিক ভট্টাচার্য, পরেশ অধিকারীর মত নাম। তবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া প্রার্থী তালিকায় নাও দেখা যেতে পারে বেশ কিছু সেলেবকে। তালিকায় রয়েছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, লাভলি মৈত্র এবং অবশ্যই রাজ চক্রবর্তী, অদিতি মুন্সিরা। কলকাতা, হাওড়ায় বাদের তালিকায় প্রায় চলেই গেছেন স্বর্ণকমল সাহা, সীতানাথ ঘোষের মত আরও কয়েকজন। তার মধ্যে উত্তর কলকাতায় এক অবাঙালি বিধায়ক ও দক্ষিণ কলকাতার এক মন্ত্রীও আছেন। তবে মন্ত্রীমশাইয়ের কপালে বিকল্প জুটে যেতে পারে। বড় প্রশ্নের মুখে কামাহাটিতে মদন মিত্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিকবার জেতা বেশ কয়েকজনকেও এবার লড়াইয়ে নাও দেখা যেতে পারে। বদলে আসতে পারে সংখ্যালঘু মুখ। শোনা যাচ্ছে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষের আসনও নিশ্চিত নয়। তবে তাঁকে সরানো হলে বিকল্প কেন্দ্রও দেওয়া হতে পারে। অধ্যক্ষ থেকে গেলেও পানিহাটির নির্মল ঘোষের বিদায় ঘণ্টা কিন্তু জোরাল ভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে অন্তত সাত থেকে আট মন্ত্রীর এবার কপাল পুড়তে চলেছে। তার মধ্যে অন্তত দুজন কলকাতার আশপাশের কেন্দ্রের বিধায়ক। বাকিরা জেলার। তবে এই হিসেব কয়েকদিন আগের। এর মধ্যে বিষ্ণুপ্রসাদের মতো অন্য দল থেকে শেষ মুহূর্তে তৃণমূলে এসে টিকিট নিয়ে চলে যেতে পারেন কেউ কেউ। তাহলে কিন্তু আরও অনেকের কপালে দুঃখ আছে। অতি
সম্প্রতি এক বামপন্থী যুবনেতার নামও শোনা যাচ্ছে দলের অন্দরে। তিনিও শেষ মুহূর্তে দলবদলে বাজিমাত করতে পারেন। উত্তরে পরেশ অধিকারীর কথা তো আগেই বলা হয়েছে। এছাড়া গৌতম দেব, আবদুল করিম চৌধুরীদের কথাও ভাবছে না দল, এমনই সূত্রের খবর।

Be the first to comment