রোজদিন ডেস্ক : মহিলাদের সম্মান দেওয়া বিজেপির কাছ থেকে শিখবো না। আমরা মহিলাদের সম্মান করি। তার প্রমাণ আমাদের সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিত্বে মহিলাদের সংখ্যা। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। এবার জনসভার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ইস্যুতে মোদিকে তথ্য তুলে কড়া আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বেলায় এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে তিনি লেখেন —
“এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে সততার সাথে সম্বোধন করার পরিবর্তে বিভ্রান্ত করছেন।
আমি এটা রেকর্ডে রাখতে চাই। তৃণমূল কংগ্রেস সর্বদা মহিলাদের জন্য বেশি করে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সওয়াল করেছে। সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভা উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের মহিলা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনুপাত সর্বোচ্চ। লোকসভায়, আমাদের নির্বাচিত সদস্যদের ৩৭.৯% মহিলা। রাজ্যসভায়, আমরা ৪৬% মহিলা সদস্য মনোনীত করেছি। মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না এবং কখনও ওঠেনি।
আমরা মৌলিকভাবে যার বিরোধিতা করছি তা হল সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া যা মোদি সরকার মহিলাদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে তার স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল। আমরা মৌলিকভাবে যার বিরোধিতা করছি তা হল, বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান পরিবর্তন, এই জাতির বিভাজন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ক্ষমতা কায়েম করা, বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিকে অন্যদের খরচে বেশি প্রতিনিধিত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিসীমা নতুন করে তৈরি করার। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ। এবং আমরা এটা চুপচাপ বসে দেখবো না।
যদি এই সরকার সত্যিই এই মহৎ উদ্দেশ্য সম্পর্কে আন্তরিক হত, তাহলে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩-এ মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার প্রায় তিন বছর পরে কেন অপেক্ষা করল? যখন বেশ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন চলছে তখন কেন তাড়াহুড়ো করে এটি করা হচ্ছে? কেন এটিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের সাথে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূল কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা এটা চালিয়ে যাবো। কিন্তু আমরা এমন একটি বিষয়ে কোন জ্ঞান শুনব না যা শাসক দল বোঝে না, আর যাদের সম্মানও করে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরের বার যখন আপনি ভাষণ দেবেন, সংসদ থেকে তা করার সাহস রাখুন, যেখানে আপনি জবাবদিহি করার জন্য বাধ্য। আপনি গতকাল যা করেছেন তা হল পুরোপুরি কাপুরুষোচিত, ভণ্ডামি এবং দ্বিচারিতা। আপনি বেশ বুঝতে পারছেন ক্ষমতা আপনার আঙুলের ফাঁক দিয়ে পিছলে বেরিয়ে যাচ্ছে। আপনি সেটাকে আরও কিছুক্ষণ ধরে রাখার জন্য যে কোনও সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। এটাই হল এর গোটা পর্বটা।”

Be the first to comment