নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:
কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ডে বাস পিছু প্রতিদিন পাঁচ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ, বিজেপি ঘনিষ্ঠ একটি বাস শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে রসিদ ছাপিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের বাসকর্মীদের কাছ থেকে এই টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাস মালিকদের একাংশ ও শ্রমিকদের অনেকেই। বিরোধীদের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির ছত্রছায়ায় তোলাবাজি শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ-এর উপস্থিতিতে ‘নদিয়া জেলা বাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। তবে দীর্ঘদিন সংগঠনটি তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পর কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ডে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পূর্বে আইএনটিটিইউসি-র দখলে থাকা কার্যালয়ে বর্তমানে বিজেপিপন্থী শ্রমিকদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
এরই মধ্যে কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের কর্মীদের হাতে পাঁচ টাকার কুপন ধরিয়ে দিয়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন বাস পিছু পাঁচ টাকা করে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন একাংশ শ্রমিক ও বাসমালিক।
নদিয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি দুর্জয় সিংহ রায় বলেন, “কৃষ্ণনগর থেকে জেলা ও জেলার বাইরে প্রায় ৮০০ বাস চলাচল করে। প্রতিটি বাস থেকে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হলে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই বিষয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। এটি এক ধরনের তোলাবাজির সামিল। বিজেপি নেতৃত্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।”
অন্যদিকে, আইএনটিটিইউসি-র বাস শ্রমিক শাখার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিঠু শেখের অভিযোগ, “আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন কখনও শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এসেই তোলাবাজি শুরু করেছে। সাধারণ শ্রমিকেরা এই ধরনের কার্যকলাপ মেনে নেবেন না।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং সংগঠনের প্রশাসনিক খরচ চালানোর উদ্দেশ্যেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ‘নদিয়া জেলা বাস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন’-এর সম্পাদক রাজু কুন্ডু বলেন, “সংগঠন পরিচালনা, কার্যালয়ের খরচ এবং শ্রমিকদের বিপদে-আপদে সাহায্য করার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই এই তহবিল গঠন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে আমরা তা বন্ধ করার বিষয়ে ভাবতে পারি।”
ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এই ধরনের কাজ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগরের বাসমহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শ্রমিক কল্যাণের নামে অর্থ সংগ্রহ নাকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি—তা নিয়ে এখন তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে জেলার পরিবহণ মহলে।

Be the first to comment