প্রতিবেদন: রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে জটিলতার মামলায় বৃহস্পতিবার কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিরোধী দলনেতা। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তই বহাল রইল। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর বৃহস্পতিবার কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানান, তবে মামলা চলবে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ হচ্ছে না। আগামী ২৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।
স্পিকারের আইনজীবী তাঁর সওয়ালে বলেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তার নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। তা হয় নিয়ম মেনে। স্পিকারের কাছে প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কয়েক জনের সই ছিল। তবে দ্বিতীয় চিঠিটি দেওয়ার সময় ৫৮ জন বিধায়ক সশরীরে স্পিকারের সামনে হাজির হন এবং ঋতব্রতের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। নিজেদের তাঁরা আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন। তাই এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই মেনে নেওয়া হয়েছে। উল্টোদিকে শোভনদেবের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা রাজনৈতিক দল ঠিক করে। বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেখানে বিবেচ্য নয়। রাজনৈতিক দল এবং পরিষদীয় দল পৃথক। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও রাজনৈতিক দলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। স্পিকারের উচিত ছিল সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করা। কিছু বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে দলের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন না। তাঁর আরও যুক্তি ছিল, বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা করা আইনসঙ্গত নয়।

Be the first to comment