Jadabpur রণক্ষেত্র, এসএফআই – এবিভিপি-র সংঘাত চরমে 

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :

কদিনের বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় রোদ উঠেছে। এসএফআই, এবিভিপির সংঘাতে এই মুহুর্তে উত্তেজনা চরমে। এইট বি বাস স্ট্যান্ডে এসএফআই-এর মিছিল পুলিশ আটকে দেয়। দীপ্সিতা ধর, দেবাঞ্জন দে সহ এসএফআই নেতা কর্মীদের আটকাতে পুলিশ ব্যারিকেড করে। তা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এসএফআই নেতা, কর্মী, সমর্থকরা।

অন্যদিকে গোল পার্ক থেকে এবিভিপি-র মিছিল শুরু হয়েছে। কেন তাঁদের আটকানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এসএফআই নেতারা।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আজ ও জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের কোন ছাত্র সংগঠন নেই। কারা (পড়ুন এবিভিপি) বিজেপির নামে এইসব করছেন তাঁর জানা নেই।

উল্লেখ্য, গেরুয়া পতাকা নিয়ে এবিভিপি নেতা, সমর্থকরা সাধারণ ভাবে বিজেপির শাখা সংগঠন হিসাবে পরিচিত। যদিও শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপি নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের সঙ্গে এই সংগঠনের কোন সম্পর্ক নেই।

গতকাল রাত থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি বনাম এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এসএফআই নেতা, কর্মী, সমর্থকরা বাধা পেয়ে রাস্তায় বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

অন্যদিকে এবিভিপি সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে জড়ো হয়েছেন। অনেকে ফটকের ওপরে উঠে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভিতরের দিকে দেদার ডিম, জলের বোতল ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। চার নম্বর ফটকে তালা দেওয়া আছে। বাইরে ও ভিতরে পড়ুয়াদের তুমুল বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশকে হিমসিম খেতে দেখা যায়।

এবিভিপি সমর্থকদের আটকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে, প্রাঙ্গণে প্রচুর বামপন্থী পড়ুয়ারা জড়ো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই এবিভিপি সমর্থকরা ডিম, জলের বোতল শুধু না, পতাকাও ছুঁড়ছে, যে জাতীয় পতাকার সম্মান সারা দেশ করে।

এবিভিপি সমর্থকদের অনেকে ফটকের ওপর উঠে পড়েছেন।পরিস্থিতি তুমুল উত্তেজনাকর।

যাদবপুর থানার সামনে এসএফআই এর বিক্ষোভ সমাবেশে প্রাক্তন সাংসদ মালিনী ভট্টাচার্য এসেছেন।

অন্যদিকে পুলিশের বিরোধিতা সত্বেও এবিভিপিও ভিতরে যেতে বদ্ধপরিকর।

ভাঙা হয় ফটকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যময় এমব্লেমটিও। এবার এগিয়ে আসেন একাধিক অধ্যাপক। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমটি ভেঙে ফেলায় তাঁরা দুঃখিত, ক্ষুব্ধ।

ছাত্র আন্দোলনের নামে এই সব কি হচ্ছে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।

বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান ইত্যাদি এখন আর চলবে না। তাঁদের রাষ্ট্রবাদী সরকার এই সব বরদাস্ত করবে না।

এবিভিপি বনাম যাদবপুরের এস এফ আই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন গুলির পারস্পরিক সংঘাতে এখন ও উত্তপ্ত সংশ্লিষ্ট এলাকা।

এবিভিপি নেতৃত্ব জানিয়ে দেন,ছত্তিসগড়ের মত যাদবপুরেও নক্সাল দের দমন করা হবে।

পুলিশ উভয় পক্ষকেই সামলানোর চেষ্টা করে। আটকানো হয় এবিভিপি সমর্থক দের। মোতায়েন হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

এবিভিপি নেতা শুভব্রত অধিকারীর দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেন।

পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পৃথকভাবে বলেন, আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উগ্রবামপন্থীরা গোলমাল করেছে।

এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, গতকাল রাতে দু পক্ষ পড়ুয়াদের বচসা, গোলমাল হয়, এই সব হয়েই থাকে, কিন্তু বিজেপির বিধায়ক আসেন। তিনি তাঁদের নাম করে রীতিমত হুঁশিয়ারিও দিয়ে যান।

আপাতত পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে বলে জানা যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*