প্রতিবেদন: মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে রেজিনগর আসনে ব্যাপক রিগিং ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুললেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি। পঞ্চায়েতওয়ারি বুথ ধরে ধরে তিনি কমিশনে অভিযোগ জানান। তার দেওয়া তালিকায় ১৩ টি পঞ্চায়েতের ২০০-রও বেশি বুথের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবিউল। তাঁর অভিযোগ, একাধিক বুথে তাঁর এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ বৈধ ভোটারদের আটকাচ্ছে। তার অভিযোগের পরেই উপনির্বাচন নিয়ে মুখ খোলেন তাঁর দলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের নামে যা চলছে তা গণতন্ত্রের হত্যা ছাড়া কিছু নয়। পুলিশকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বুথের পর বুথে দেদার ফলস ভোট চলছে। দলদাস পুলিশ যারা জেনুইন ভোটার তাদের বুথে যেতে বাধা দিচ্ছে। মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এভাবে কোনও জনমত প্রতিফলিত হচ্ছে না। পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠ করছে বিজেপি। দিল্লিতে যেভাবে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করে ভোট লুঠ করে, প্রকৃত ভোটারকে বাদ দিয়ে, সরকারি মিশনারিকে অপব্যবহার করে, কারচুপি করে পিছন দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। উপনির্বাচনেও সেটা অব্যাহত। একদিকে প্রচুর ভোটার বাদ। এখনও পর্যন্ত তাদের নাম তালিকায় ওঠেনি। অন্যদিকে, পুলিশ দিয়ে যে সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, বুথের পর বুথ কোনও এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি। গোটাটা পুলিশকে ব্যবহার করে করা হচ্ছে। এর আগে মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতেন। এখন সরকার ঠিক করে দিচ্ছে পুলিশ দিয়ে মানুষের ভোট কোন দিকে পড়বে। রবিউল আলম চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তিনি সমস্ত জায়গায় অভিযোগ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থিত নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী তিনি একই অবস্থায়। ওখানেও ভোট লুঠ চলছে। পুলিশকে ক্যাডারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপির গুন্ডারা পরে যাচ্ছে। আগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আমাদের নেতা, কর্মী, এজেন্টদের ওপর তাণ্ডব চলছে। অলিখিতভাবে গ্রেফতারির নামে আটকে রাখা হচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে, বুথের পর বুথ ফাঁকা করে দেওয়া হচ্ছে। অবাধে ভোট লুঠ করছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে। কমিশনে আমাদের দলের তরফে যা যা জানানোর জানানো হয়েছে। আমরা এই উপনির্বাচনের তীব্র নিন্দা, বিরোধিতা করছি। আমাদের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও বিধায়ক অশোক দেবের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ থাকছে। যথোপযুক্ত জায়গায় আমরা এই প্রতিবাদ নথিভুক্ত করব।

Be the first to comment