প্রতিবেদন: পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যে পুলিশের অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০১। তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৭৪ জন। ফলে শূন্যপদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৯২৭, যা মোট অনুমোদিত পদের প্রায় ৩৬.৬ শতাংশ। জনসংখ্যা-পুলিশ অনুপাতের নিরিখে এই সংখ্যা বিপুল ঘাটতির প্রমাণ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশে দ্রুত নিয়োগের উপর জোর দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার নবনিযুক্ত পুলিশকর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের সংখ্যা জাতীয় গড়ের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বর্তমান হারকেও ছাড়িয়ে যাবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে একাধিক পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুলিশের ৩০০ জন সাব-ইনস্পেক্টর ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুলিশের আরও ৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। পাশাপাশি, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজ্য পুলিশের আরও ৯ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। এ ছাড়াও, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৬৫০ জন পুলিশ ক্লার্ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিই নয়, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশবাহিনী গড়ে তোলাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশিক্ষিত পুলিশবাহিনীর কোনও বিকল্প নেই। সেই কারণেই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি পরিকাঠামো এবং পুলিশকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করা গেলে থানাগুলির উপর চাপ কমবে, তদন্তের গতি বাড়বে এবং জনগণের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

Be the first to comment