মাস দেড়েকের হাতির ছানাকে লালন পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে গরুমারার বনকর্মীরা

Spread the love
ঘড়ি ধরে দেড়ঘণ্টা অন্তর ল্যাক্টোজেন ২। সময় মেনেই ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যান্টিবায়েটিক। মাস দেড়েকের হাতির ছানাকে লালন পালন করতে গিয়ে নাওয়া খাওয়ায় ভুল হয়ে যাচ্ছে গরুমারার বনকর্মীদের।
গত রবিবার রাতে চালসা চা বাগানের মূর্তি ডিভিশনে ছানাপোনা নিয়ে ঢুকে গিয়েছিল ১৫ টি হাতির একটি দল। ঢুকে গিয়েছিল চা বাগানের একদম ভেতরে। ভোর হতে দলটি ফের জঙ্গলে ফিরে গেলেও ছানাটি রয়ে যায়। অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী বলেন, ‘‘সকালে চা শ্রমিকরা বাচ্চা হাতিটির চিৎকার শুনে বন দফতরে খবর দেয়। এরপর এলিফ্যান্ট স্কোয়াড সহ বনকর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে গরুমারা পিলখানায় নিয়ে আসে।’’
তিনিই জানান, যখন নিয়ে আসা হয়েছিল তখন হাতিটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল না। পিলখানায় আনার পর দুধমা মুক্তিরানীর দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঘড়ি ধরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় চাহিদা অনুযায়ী বেবিফুড গুলিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। দেরি হলেই তার চিৎকারে মুখরিত হচ্ছে গরুমারার জঙ্গল। মা হারানো এই হস্তি শাবকই এখন গরুমারায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ।
গরুমারা সাউথ এর রেঞ্জ অফিসার অয়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সারাক্ষণ ধরে কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে মাস দেড়েকের এই ছানাকে। ছানাটিকে উদ্ধারের পর আমরা দেখতে পাই তার মুখে গায়ে ইনফেকশন রয়েছে। ওই সময় ভালো করে হাঁটতেও পারছিল না ছানাটি। সম্ভবত এই কারণেই তাকে ফেলে চলে গেছে দলটি।’’
পশু চিকিৎসক ডঃ শ্বেতা মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে রয়েছে হাতির ছানাটি। তিনিই তার খাবার ও ওষুধের চার্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘সকালের দিকে দেড় ঘন্টা অন্তর ৭৫০ এম এল করে পরে ওর চাহিদা অনুযায়ী কখনো ৫০০ এম এল কখনও ৭৫০ এম এল করে বেবিফুড দেওয়া হচ্ছে। এখন অনেকটা সুস্থ হয়েছে। ঘেরাটোপে হাঁটাহাঁটি করছে।’’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*