রমিত সরকার, নদীয়া :
নদীয়ার কৃষ্ণনগরে পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের ডাকে ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে লাগাতার কর্মবিরতি। একাধিক দাবিকে সামনে রেখে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)–এর দফতরের মূল গেটের সামনে ধরনা, অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন আশা কর্মীরা।
আশাকর্মীদের অভিযোগ, কাজের চাপ ক্রমশ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়েনি। দীর্ঘদিন ধরেই সময়মতো সম্মানী প্রদান, বকেয়া মেটানো এবং কাজের যথাযথ স্বীকৃতির দাবি ঝুলে রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউনিয়ন নেতৃত্ব।

নদীয়া সংগঠনের সদস্যা অপর্ণা গুহ জানান, আশাকর্মীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে মাসিক ১৫,০০০ টাকা বেতন চালু, সরকারি ছুটি ঘোষণা, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং সমস্ত বকেয়া প্যাকেজ ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত মেটানো। পাশাপাশি নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদানের দাবিও তোলা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কালীপুজোর পর ১৫,০০০ টাকার দাবি মানা না হয়ে ১০,০০০ টাকা ‘উপহার’ হিসেবে দিয়ে ১৪টি শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আশাকর্মীদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। আশাকর্মীদের স্পষ্ট দাবি—কোনও শর্ত নয়, শর্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।

অপর্ণা গুহ বলেন, সরকার কেন্দ্রের অর্থ না পাওয়ার অজুহাত দিলেও আন্দোলন শুরুর দ্বিতীয় দিনেই তিন মাসের বকেয়া প্যাকেজের অর্ডার বেরোনোয় সেই যুক্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আশাকর্মীদের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হচ্ছে।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে সিএমওএইচ দফতর চত্বরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। সরকার সম্পূর্ণ দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি চলবে বলেই জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Be the first to comment