রোজদিন ডেস্ক : বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রকে (Bankimchandra) অপমানের গুরুতর অভিযোগ তুলল রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। এর জন্য সুকান্ত মজুমদারকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন তাঁরা। আজ দলীয় ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে ছবি-সহ প্রমাণ দেন কিভাবে রাজ্যের এই দুই মনীষী-কে অপমান করেছেন উনি। দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছবি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, কিভাবে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি পায়ের কাছে রেখেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। এর বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন।
অতি সম্প্রতি মালদায় জনৈক টিএমসি ছাত্র নেতা মোদি, শাহ-র ছবির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছবিও নষ্ট করেন। যার বিরুদ্ধে আসরে নামে বিজেপি। ধিক্কার ধ্বনিত হয় সব মহলেই। আজ দুই নেতা সেই প্রসঙ্গে বলেন, তাঁদের দলের কেউ এই সব কুকাজ করলে শাস্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্ত নেতাকে পুলিশ ধরেছে, দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্ত সুকান্তবাবু-সহ বিজেপি যারা এই সব করে, দল তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। কারণ বিজেপি বাংলা, বাঙালি বিরোধী। এটি শুধু তাঁরা না, সারা দেশের বাঙালিরা সবাই জানেন। ব্রাত্য বসু বঙ্কিমচন্দ্রের এক উপন্যাসের চরিত্র চঞ্চল কুমারীর প্রসঙ্গ তুলে সুকান্ত মজুমদারকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে বলেন, এখন এক চঞ্চল কুমার এসেছেন!! বিজেপি বিশ্বভারতীর ফলক থেকে রবীন্দ্রনাথের নাম মুছেছে, কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মুর্তি ভেঙেছে ইত্যাদি বলে আক্রমণ শানান।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঢালাও প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উনি এখানে ৪০ হাজার দুর্গাপূজার কমিটিকে টাকা দিচ্ছেন, আর দিল্লির বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী সব দুর্গাপূজার মন্ডপে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখার ফতোয়া দিচ্ছেন!! ওরা জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক সংগীত-এর (রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্র) রচয়িতাদেরও সম্মান দেয় না।
দুই নেতাই জোরালো ভাবে সুকান্ত মজুমদারকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন।

Be the first to comment