বাজি কাণ্ডে মারধরের জের!! কোচবিহারের পুলিশ সুপার বদলি হলেন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ভাইফোঁটার ছুটির মধ্যেই বদলি করা হল কোচবিহারের পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যকে। কালিপুজোর রাতে নিজের এলাকার সাধারণ মানুষকে লাঠি পেটার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষিতে নবান্ন তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নিলো বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। তাঁর জায়গায় কোচবিহারের নতুন পুলিশ সুপার হলেন সন্দীপ কারার।
অপসারিত পুলিশ সুপারকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের তৃতীয় ব্যাটেলিয়ন এর কমান্ডান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। যা কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কালিপুজোর রাতে বাড়ির কাছে বাজি ফাটানো নিয়ে ক্ষিপ্ত দ্যুতিমান ভট্টাচার্য নিজেই ডান্ডা হাতে স্থানীয় মানুষদের জব্দ করতে পথে নামেন। হাফ প্যান্ট, স্যান্ডো গেঞ্জি পরে, মাথায় ফেট্টি বাঁধা এসপি-র রুদ্র রূপ দেখে যুগপৎ বিস্মিত ও আতঙ্কিত হন তাঁরা। হতচকিত ভাব কাটার আগেই এসপি-র লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে মহিলা, শিশুরাও ছিল। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এলাকার মানুষ এসপি-এর এমন ব্যবহারের প্রতিবাদে সরব হন।
এস পি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর পালটা অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের পরও গভীর রাতে কয়েক জন শব্দবাজি ফাটাচ্ছিলেন। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা এতে বাধা দিয়েছেন শুধু। তাঁর এই সাফাই যে নবান্ন ভাল চোখে নেয়নি আজ তার প্রমাণ মিলেছে বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন। ভাইফোঁটার ছুটির মধ্যেই আজ তাঁর বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবান্ন। তাঁর জায়গায় এলেন আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসি ( পশ্চিম ) সন্দীপ কারার।
রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট সোনওয়ানে কুলদীপ সুরেশ।
কোচবিহারে কালিপুজোর দিন গভীর রাতে অপসারিত এস পি দ্যুতিমান ভট্টাচার্যর ব্যবহার এর তীব্র নিন্দা করেছিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর এই ব্যবহারের প্রতিবাদে পরদিন উত্তাল হয় এলাকা। স্থানীয় মানুষ প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পথ অবরোধ করেন। তাঁদের হঠাতে পুলিশ লাঠি চালায়। ১০ জনকে গ্রেফতারও করে। আদালত তাঁদের তিন জনকে জামিন দিলেও বাকিদের পুলিশ ও জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। এতে স্থানীয় মহলে আরও ক্ষোভ বাড়ে। গোলমালের আশঙ্কায় এস পি-কে বদলি করা হল কিনা তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*