রোজদিন ডেস্ক :
সিপিআইএমের (CPIM) প্রকাশ্য সমাবেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন দলের নেতারা। আজ কল্যাণীর সমাবেশে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি প্রমুখ তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ শানান।
এম এ বেবি গেরুয়া শিবিরকে জনবিচ্ছিন্ন করার আহবান জানিয়ে বলেন, ওঁদের মুখোশ খুলে দিতে হবে, ওঁদের হারাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে তোপ দেগে তিনি বলেন, গুজরাটে দাঙ্গা করেন উনি। আরএসএস সাম্প্রদায়িক হিংসা তৈরি করছে। দেশের নতুন প্রজন্ম, পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, বিহারের ছয় বছরের শিশু দেখিয়ে দিয়েছে ছাপ্পান্ন ইঞ্চির বিরুদ্ধেও চোখে চোখ রেখে দাঁড়ানো যায়। বেশ কিছু উপ-নির্বাচনে বিজেপি পরাজয়ের উল্লেখ করেন তিনি।

কল্যাণীতে সিপিএমের দুদিনের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের পর আজ প্রকাশ্য সমাবেশে মানুষের ভিড় উপছে পড়ে। নেতাদের দাবি পলাশি, চাকদা, করিমপুর ইত্যাদি জায়গা থেকেও বহু মানুষ এসেছেন। মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা থেকেও বহু কর্মী সমর্থক আসেন।
দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বিজেপি, আরএসএস-কে তোপ দেগে বলেন, ফ্যাসিস্টরা ভয় দেখাতে চায়। তাঁরা ভয় পান না। অন্যায়, অপশাসনের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই জোরদার হবে। এখন বাম বনাম দক্ষিণের সরাসরি লড়াই। তৃণমূল নামের পর্দা উঠে গেছে। কৃষকের ফসলের দাম, স্কুলের দাবি, বেকারের কাজ, গরিবের কাজ – আবাসের টাকা, ভোটের অধিকার, নারীদের সম্মানের দাবিতে লড়াই তীব্রতর হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে মহম্মদ সেলিম আরও বলেন, তৃণমূলের পথেই বিজেপি চলছে। ওদের দেখেও শিক্ষা নেয়নি। নিজেদের মালিক মনে করছে।
গণতন্ত্রে কেউ মালিক নয়। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বলেছিলেন, লাল ঝান্ডা কেন, লাল রুমালও থাকবে না৷ এখন সেই পতাকা দিয়ে অমিত শাহের চেয়ার মোছা হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন।
আজ সমাবেশের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন দলের তরুণ নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি। নাম না করে তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, বিধানসভায় থাকলেই বিরোধী হওয়া যায় না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেহনতির পক্ষে যাঁরা কথা বলেন, তাঁরাই আসল বিরোধী। তাঁরা কারও কাছে, কোনও হুমকিতে মাথা নোয়াবেন না।
সবে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে বিজেপি সাপের পাঁচ পা দেখেছে বলে তোপ দাগেন। সমবেত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি দৃপ্ত কন্ঠে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহবান জানান। এই বিশ্বাসে লড়াই-এ এগিয়ে যাওয়ার ডাক দেন৷ জোরালো ভাবে প্রশ্ন তোলেন, এই বিজেপি তাঁদের দেশভক্তি শেখাবে? স্বাধীনতা আন্দোলন শিখিয়েছে একটা দেশ দিয়ে আর একটা দেশের মাথায় বসানো যাবে না।
মেহনতি মানুষকে বিজেপি ভয় পায় বলেই তাঁদের কার্যালয় দখল করে, ভোটের আগে দেওয়া কথা রাখে না।
বিজেপি এসে ধর্মের নামে ভাগ করার আগে তৃণমূলকে পাঠিয়েছিল জমি তৈরি করতে। এখন তাদের ভাল তৃণমূল বলে পকেটে রাখছে আর গরিবের স্বার্থের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। মানুষ বিজেপিকে ভালোবেসে ভোট দেয়নি বলে মীনাক্ষী মুখার্জি মন্তব্য করেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওদের ভোট দিয়েছে। এদের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ জোট বাঁধছে বলে জানান তিনি।
কল্যাণীর এই সমাবেশে সূর্যকান্ত মিশ্র, মেঘলাল শেখ, রামচন্দ্র ডোম, দীপ্সিতা ধর সহ দলের বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment