পিয়ালি, কলকাতা :- কুমারস্বামী কামরাজ ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি তামিলনাড়ুতে জন্মেছিলেন এবং ১৯৬০ এর দশকে তাঁকে ভারতের রাজনীতির নির্মাতা বলা হত। ১৫ ই জুলাই ১৯০৩ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং রাজনীতিবিদ যিনি ১৩ই এপ্রিল ১৯৫৪ থেকে ২রা অক্টোবর ১৯৬৩ পর্যন্ত মাদ্রাজের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
লাল বাহাদুর শাস্ত্রী এবং পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে উন্নীত করার জন্য দায়ী ছিলেন কামরাজ যার কারণে ১৯৬০ এর দশকে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে কিং মেকার হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ছিলেন।
১৯৫৪ সালে কামরাজ মাদ্রাজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৭ সালে তিনি রাজ্য আইনসভায় একটি আসন জেতেন। এই সময় তিনি শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এখন যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা, মিড ডে মিল বা শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার বিনামূল্যে ইউনিফর্ম প্রদান ইত্যাদি আধুনিক ব্যবস্থা তা তৎকালীন সময়েই প্রবর্তন করে খ্যাতি অর্জন করেন কামরাজ।
রাজ্যের অর্থনীতির উন্নয়নে কামরাজ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষত কৃষি অর্থনীতিতে সেচপ্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জমিদারদের শোষণ থেকে প্রান্তিক কৃষকদের রক্ষা করতে আইন প্রণয়ন করেন তিনি। ১৯৬৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা পরবর্তীকালে ক্যাম্পাস নামে পরিচিত হয়।
তাঁর প্রবর্তিত কামরাজ প্ল্যান বা কামরাজ পরিকল্পনা আজও প্রাসঙ্গিক। চীনের সাথে ভারতের ভয়াবহ সীমান্ত যুদ্ধের পর তৃণমূল পর্যায় কংগ্রেস পার্টি পুনর্গঠনে তাদের প্রচেষ্টা নিবেদনের জন্য উচ্চ স্তরের জাতীয় ও রাজ্য কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন কামরাজ।
কামরাজের অন্যতম সাফল্য যে তিনি নিম্ন বর্ণ এবং দলিত যাদের এক সময় অস্পৃশ্য বলা হতো সেই সব ভোটারদের কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
কামরাজ ১৯৩৭ সালে এবং ১৯৪৬ সালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৩৬ সালে তিনি কংগ্রেস পার্টির মাদ্রাজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন এবং ১৯৪০ সালে তিনি এর সভাপতি হন। ১৯৪৭ সালের তিনি জাতীয় দলের কার্যকরী কমিটিতে উন্নীত হন। ১৯৬৯ পর্যন্ত এই দলের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি ১৯৪৬ সালে স্বাধীন ভারতের জন্য সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৫১ সালে কামরাজ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন।
১৫ই জুলাই তাঁর জন্মদিনে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাহুল বলেন ভারতরত্ন ও জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি কামরাজ একজন যথার্থ মানবদরদী এবং প্রকৃত জননেতা ছিলেন। তিনি প্রান্তিক মানুষের জন্য অক্লান্তভাবে চেষ্টা করে গেছেন বলা যায় তাদের রক্ষক ছিলেন। তাঁর সততা ,নম্রতা ,সেবা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
আমরা কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যকে কামরাজ বিষয়ে প্রশ্ন করি। তিনি বলেন,’ কামরাজ যেমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার উপমা ভারতে বিরল। গান্ধীজীর পর এইরকম মাপের রাজনীতিক ভারতবর্ষ পায়নি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করার সাহস দেখিয়েছিলেন। নেহেরুকে বুঝিয়েছিলেন মানুষ ও দলের সঙ্গে সম্পর্ক মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে উদার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। তাঁর আদর্শ আজকের দিনে বিরল। প্রদীপবাবু বলেন এখন মন্ত্রিসভায় থাকার জন্য যেভাবে মারামারি হয়, ক্ষমতা দখল বা কুক্ষিগত করার জন্য যে চেষ্টা হয় সেখানে কামরাজের মত মানুষ তাঁর আদর্শ দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কামরাজ প্রসঙ্গে বলেন কামরাজ প্ল্যান হলো এফেক্টিভ প্ল্যান। এই রাজ্য তথা দেশের প্রেক্ষাপটে কামরাজের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল উচ্চারিত হবে। সমাজের কোন বৈষম্যের জায়গায় যেখানে দ্বন্দ্ব বা বিরোধিতা হত সেখানে আর্টিকেল ১৪ বা রাইট টু ইকোয়ালিটির কথা বলতেন তিনি । তার দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ বলেন শুভঙ্কর বাবু। রাহুল গান্ধী আজ যে কাস্ট সেনসাস বা দলিত ওবিসিদের দলে প্রাধান্য দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন তা কামরাজেরই পথ। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হলে শুধু কংগ্রেস দল নয় অন্য যে কোন দল যদি তাঁর উপায় গুলি অবলম্বন করতেন তাহলে রাহুল গান্ধীকে এখন এই ডাক দিতে হতো না। শুভঙ্কর বলেন কামরাজের প্ল্যান অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক প্ল্যান। তাই এত বছর পরেও তিনি সমান প্রাসঙ্গিক।
রোজদিনের তরফ থেকে জন্মদিনে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ্য

Be the first to comment