রোজদিন ডেস্ক :
আগামীকাল বিহার নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফা নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যায় খোদ রাজধানী দিল্লির জনবহুল লাল কেল্লার কাছে ভয়ংকর বিস্ফোরণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উদবিগ্ন। এই খবর পাওয়ামাত্র প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে কথা বলেন।
পরে অমিত শাহ জানান, এনআইএ, এনএসজি এই ঘটনার তদন্ত করছে। দিল্লির পুলিশ কমিশনার সহ পদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছেন। কিভাবে এই বিস্ফোরণ হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকার সব সিসিটিভিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। কিভাবে এই বিস্ফোরণ হল সব দিকে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের এল এন জে পি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আজ সন্ধ্যায় একটি আই ২০ গাড়িতে এই বিস্ফোরণ হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পরই আমিত শাহ আহতদের দেখতে এল এন জে পি হাসপাতালে যান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাতে সমাজ মাধ্যমে বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেন। জানান, যাঁরা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকার তাঁদের পাশে আছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এই বিস্ফোরণের খবরে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও চিন্তাজনকও। কয়েকজন নির্দোষ মানুষ এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন, যা অত্যন্ত দুঃখের। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারদের গভীর সমবেদনা জানান।
প্রসঙ্গত, রাজধানী দিল্লির পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। এই ঘটনা য় বিভিন্ন মহলে গোয়েন্দা ব্যর্থতা র অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরেই গুজরাট সহ বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহ ভাজন জঙ্গিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লির কাছে ফরিদাবাদ, জম্মু কাশ্মীরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনজন চিকিৎসক সহ আটজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এই সব নিয়ে জোর আলোচনার মাঝেই আজ সন্ধ্যায় আচমকা জনবহুল লাল কেল্লার কাছে এই বিস্ফোরণের খবর সারা দেশকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এই ঘটনা য় গভীর শোক ব্যক্ত করেছেন।
বিরোধী নেতা রা এই ঘটনা র উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে দোষী দের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা র দাবি জানান।
সি আই এস এফ এই বিস্ফোরণের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করেছে। সব বিমানবন্দর, দিল্লি মেট্রো, ঐতিহ্য বাহী ভবন, সরকারি ভবন সহ সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ স্থল ও পরিদর্শন করেন। দিল্লি পুলিশ কমিশনার-সহ এন এস জি, এনআইএ-র পদস্থ আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সুত্রের খবর,
প্রাথমিকভাবে দিল্লি পুলিশ এর সঙ্গে বড় কোন সন্ত্রাসবাদী যোগ আছে বলে মনে করছে না।
বিস্ফোরণের ধরণ দেখে তা ভাবা হচ্ছে। তবে জঙ্গি যোগের কথা একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছে না। যে গাড়িতে বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা হরিয়ানার নম্বর প্লেট ছিল। গাড়ির মালিককেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
হাওড়া স্টেশন সহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকাতেও ইতিমধ্যে নাকা তল্লাসি চলছে।
গাড়ির মালিক সলমন-কে পুলিশ আটক করেছে। তিনি ওই গাড়ি আগেই বিক্রি করেছেন বলে জানান।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই পরিস্থিতিতে গুজব ছড়িয়ে আতংক সৃষ্টি না করতে আর্জি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই ঘটনায় গভীর শোক ব্যক্ত করেন।
কিভাবে এই ভয়ংকর ঘটনা হল বহু প্রত্যক্ষদর্শী তার বিবরণও দেন।
সি আই এস এফ বিমানবন্দর-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ ভবন, প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
গাড়িতে এত বিস্ফোরক কেন ও কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, পুলিশ তা তদন্ত করছে।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধীও সমাজ মাধ্যমে দিল্লির বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এত ছিল, যে বহুদূরে তার আওয়াজ শোনা যায়। একের পর এক গাড়িতে আগুন লেগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকল দ্রুত অকুস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। আহতদের আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ শোকাবহ রূপ নেয়।
ঘটনা স্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেন। নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ কুকুরও।
Be the first to comment