মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করলো আদালত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
বিজেপির হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের তাঁর পুরানো দলে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। আজ তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করে দিল আদালত। উচ্চ আদালতের দুই বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে উচ্চ আদালতে গেছিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর এই বিধায়ক পদ শুধু খারিজই হল না, এই সঙ্গে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি তাঁকে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন, তাও খারিজ করেছে আদালত।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রেক্ষিতে বিধানসভার অধ্যক্ষর পদত্যাগ দাবি করেছেন। রাজ্যে এই প্রথম নজিরবিহীন ভাবে দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিধায়কের পদ খারিজ করলো আদালত। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে
কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদে জয়ী হয়েছিলেন ঝানু রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। পরে তিনি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। খাতায় কলমে বিজেপি বিধায়ক থাকায় তাঁকে বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি বিধায়করা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালেও আমল দেননি অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি।
প্রতিবাদে আদালতে যান বিরোধী নেতা। আজ দুই বিচারপতি মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করায় উল্লসিত বিজেপি শিবির।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, অন্য দলে যোগ দিলে আদর্শগত ভাবে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির ইস্তফা দেওয়া উচিত। যদিও বর্তমান রাজনীতিতে তা দেখা যায় না।
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ায় ওই বিধানসভা কেন্দ্রর আসনটি শূন্য হল। তবে আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা থাকায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
একদা শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুকুল রায়। টিএমসি দলের বিপুল উত্থানে তাঁর অবদান অস্বীকার করেন না দলের অনেকেই।
পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিলে টিএমসি-র সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এমন কি নদীয়ায় নিজের বাড়ির কাছে জনপ্রিয় তরুণ টিএমসি বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাসের হত্যাকান্ডে তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়। বিজেপির হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে পরে ফের নিজের পুরানো দলেই যোগ দেন মুকুল রায়। বেশ কিছু দিন হল অসুস্থতার দরুণ সক্রিয় রাজনীতি থেকে বহুদূরে চলে গেছেন “চাণক্য” মুকুল রায়। ইদানীং তাঁর নামও খুব একটা শোনা যায় না।
আজ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই জয় সংবিধানের জয়। মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে তিনি বলেন, ওঁর কোন লাজ লজ্জা নেই। তিনি বিধানসভার অধ্যক্ষর পদত্যাগ দাবি করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*