রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– দক্ষিণ কলকাতা ল’ কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি হতবাক, আমি ব্যথিত। কলেজ চত্বরে এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’ সেই সঙ্গে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন। গভর্নিং বডির জরুরি বৈঠক ডাকারও নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার সেই বৈঠক হবে। কলেজে কীভাবে এত বড় ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় তালবাগান ক্রসিংয়ের সামনে থেকে। ধৃত মনোজিৎ তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতা। সে কলেজের অস্থায়ী পদে চাকরিও করত। অভিযুক্ত বাকি দুজনও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি। নির্যাতিতা নিজেও টিএমসিপির সদস্য। এদিকে, যেহেতু ধর্ষণের ঘটনাটি কলেজের গার্ডরুমে ঘটেছে, সেই কারণে শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গতকাল রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও রক্ষীর দাবি, সে সম্পূর্ণ নির্দোষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৫ জুন, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতা অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছেন ‘জে’, ‘এম’, এবং ‘পি’ নামে। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, প্রথমে ইউনিয়ন রুমের ভিতরে তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে মনোজিৎ। বাইরে পাহারায় ছিল বাকি দুজন। কলেজের মেন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রীকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। রক্ষীর কাছে তিনি সাহায্য চেয়েও পাননি। এই ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদৌ কোনও সুরক্ষা আছে কিনা, উঠছে সেই প্রশ্নও।
ঘটনার সূত্র ধরে ফের একবার সামনে এসেছে কলেজের ‘ইউনিয়ন সংস্কৃতি’ ও ‘দাদাগিরি’র প্রসঙ্গ। কেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ইউনিয়ন রুমে একচেটিয়া শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য- সেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক রং না দেখে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Be the first to comment