রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দেশের ৫২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাই। আজ বুধবার রাষ্ট্রপতি ভবনে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে এই মর্মে শপথবাক্য পাঠ করান। গতকাল ৬৫ বছর বয়সে অবসর নেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। আজ তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হলেন বিচারপতি গাভাই।
তিনিই হলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও দলিত সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। এর আগে ২০০৭ সালে বিচারপতি কেজি বালকৃষ্ণণ প্রথম দলিত সম্প্রদায় হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ বিচারকের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অবশ্য তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবসরের পর আর কোনও নতুন পদ বা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।
প্রখ্যাত রাজনীতিক আরএস গাভাইয়ের পুত্র বিচারপতি গাভাইকে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, “আমার কোনও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। আমি অবসর পরবর্তী কোনও দায়িত্ব বা পদ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য কোনও যে কোনও দায়িত্বের অর্থ দেশের প্রধান বিচারপতির পদের নীচে, এমনকি রাজ্যপালের পদও।”
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালের ২৪ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের অমরাবতী গ্রামে জন্ম বিচারপতি ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাইয়ের। তিনি এখনও বছরে তিনবার তাঁর গ্রামে যেতে ভালোবাসেন। বিশেষ করে তাঁর প্রয়াত পিতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী এবং গ্রামের বার্ষিক মেলার সময়ে। বিচারপতি গাভাই ডাক্তার বি আর আম্বেদকরের আদর্শ প্রচারে গভীরভাবে নিযুক্ত একটি পরিবারের সদস্য। তাঁর পিতা আর এস গাভাই বিশিষ্ট আম্বেদকরবাদী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বিহার ও কেরলের রাজ্যপালও ছিলেন।
১৬ মার্চ ১৯৮৫ সালে বারে যোগদান করেন বিচারপতি গাভাই। এরপর বম্বে হাইকোর্ট এবং তার নাগপুর বেঞ্চে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০০০ সালে তিনি নাগপুর বেঞ্চের সরকারি আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৪ নভেম্বর ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে উন্নীত হন এবং ২০০৫ সালের নভেম্বরে বম্বে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হন। এরপর বিচারপতি গাভাই ২৪ মে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে উন্নীত হন।
বিগত ছয় বছরে তিনি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইন, দেওয়ানি আইন, ফৌজদারি আইন, বাণিজ্যিক বিরোধ, সালিশি আইন, বিদ্যুৎ আইন, শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়, পরিবেশ আইন-সহ বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৭০০টি বেঞ্চের অংশ ছিলেন। বিচারপতি গাভাই ২৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে অবসর গ্রহণ করবেন।

Be the first to comment