Kolkata Hotel : ভয়াবহ আগুন প্রাণ কাড়লো শিশু সহ ৯ জনের, উঠছে প্রশ্ন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক  :
তারাপীঠের পর কলকাতা। ফের ভয়াবহ আগুন প্রাণ কাড়লো শিশু সহ নয় জনের। কলকাতার প্রাণ কেন্দ্র মির্জা গালিব স্ট্রীটে শিখা ইন হোটেলের ঘটনা। গতকাল রাত দুটো নাগাদ বহুতল এই হোটেলের তিন তলায় বিধ্বংসী আগুন লাগে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান নয়জন। দমকল অফিসে র কাছেই এই হোটেলে কিভাবে আগুন লাগলো তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।

সূত্রের খবর, পাঁচ তলা এই বহুতলে একাধিক হোটেল আছে। বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, প্রাক্তন সরকারের আমলে কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে এই হোটেল চলছিল। আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এমন কি এই বহুতলে একাধিক হোটেল, অফিস, রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থাও আছে।

দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এই ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গভীর শোক, উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। কিভাবে এই সব হোটেল চলছিল তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে যেভাবে খোদ কলকাতায় এত বড় আগুন এতজনের প্রাণ নিলো এতে সব মহলেই উদ্বেগ, আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি, কাউন্সিলর সোহিনী মুখার্জির দিকেও। তাঁদের মদতেই এই সব বেআইনি কার্যকলাপ চলত বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে আবাসিক এই বহুতলের একাধিক ঘর হোটেল হিসাবে ব্যবহার করা শুরু হয়। তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷
গতকাল গভীর রাতে এই আগুন লাগে। দমকল কর্মীরা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আজ ভোরে আগুন আয়ত্তে আনেন। প্রায় আশি জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ছয় জন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত দের একজন ঝাড়খন্ডের বলে সনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন আছে। আনা হয়েছে পুলিশ কুকুর। কিভাবে আগুন লাগলো তা এখন ও পরিস্কার নয়। একই বাড়িতে কি করে একাধিক হোটেল চলছিল তা নিয়ে ও প্রশ্ন উঠেছে।
সকাল দশটা। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে আসেন।

এসেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। অধিবাসীদের অভিযোগ, কোন ফায়ার অ্যালার্মও বাজেনি। হোটেলের মালিকের কোন খোঁজ এখনও মেলেনি। তিনি পলাতক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়,কৌশিক চৌধুরী প্রমুখ পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন।
এসেছেন ফরেন সিক প্রতিনিধি রা। আছেন ডি জি দমকল সহ পদস্থ
আধিকারিকরা।
পুরো ভবনটি কার্যত জতুগৃহ বলে অভিযোগ উঠেছে। দমকলের কার্যালয়, নিউ মার্কেট থানার কাছে কিভাবে এই হোটেলগুলি চলত, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ভবনে একটিই যাতায়াতের সিঁড়ি বলে জানা যায়। দুটি বেরোনোর দরজা থাকলেও একটি দরজা বন্ধ ছিল।
শতবর্ষ প্রাচীন এই ভবনে কারা থাকেন, কিভাবে এত হোটেল চলে, সব কিছুই এখন তদন্ত হচ্ছে।
নিহতদের দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক শিশু, মহিলা, পুরুষ এর মধ্যে আছে। তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*