ঝকঝকে পোশাক, তকতকে মেকআপ। দর্শনার্থীদের ভিড়ে মিশেই দিব্য ঠাকুর দেখছেন তরুণী। আলাদা করে কিছুই বোঝার উপায় নেই। কিন্তু কেউ কোথাও কোনও বেচাল করেছে তো ব্যস! ভিড়ে মিশে থাকা সেই তরুণীই হয়ে উঠতে পারেন সাক্ষাৎ অসুরদলনী। অভিযুক্তকে কলার ধরে বাইরে নিয়ে যাবেন তিনি। বেশি ছটফট করলে চড়-চাপড়ও এসে পড়তে পারে। তত ক্ষণে আবার ওই তরুণীর সঙ্গে জুটে যাবেন আরও কয়েক জন সঙ্গিনী। গন্তব্য, সোজা থানা।
এভাবেই পুজো জুড়ে সারা শহরে নজরদারি চালাবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ মহিলা বাহিনী ‘দ্য উইনার্স’। মাস তিনেক আগেই ২৪ জন কনস্টেবল এবং তিন জন সাব-ইনস্পেক্টর নিয়ে এই বাহিনী তৈরি হয়েছে লালবাজারে। প্রত্যেকের সঙ্গে একটা করে বাহন, হয় স্কুটি নয় মোটরবাইক। কেউ উর্দিতে, কেউ বা সাদা পোশাকে। শহরে ঘুরতে ঘুরতেই নজর থাকবে বিভিন্ন মণ্ডপে, সংলগ্ন এলাকার ভিড়ে, বা ফঁকা অলিগলিতে। অপরাধের আঁচ পেলেই অ্যাকশন! স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেই।
কলকাতা পুলিসের উপনগরপাল (দক্ষিণ) মিরাজ খালিদ বলেন, “সিনিয়র অফিসাররা ছাড়াও স্থানীয় থানা এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে। শপিং মল হোক বা পুজোমণ্ডপ, বা কোনও খাবারের দোকান, যেখানে মহিলারা বেশি সংখ্যায় থাকবেন, সেখানেই ঘুরে ঘুরে নজর রাখবে এই বাহিনী।”
পুলিশ সূত্রের খবর, বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে চার মাসের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যাতে খালি হাতেও পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সে–কারণে শেখানো হয়েছে মার্শাল আর্টসও। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রও। থাকে বডি–ক্যামেরা। শহরের রাস্তায় ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি রুখতে উইনার্সের সদস্যেরা দিনে এবং রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় নজর রেখে চলেন।
পাশাপাশি মহিলারা কোথাও আইনভঙ্গ করলেও সেখানে অন্য পুলিসকর্মীদের সাহায্য করেন উইনার্সের সদস্যেরা। ভিড়ের মধ্যে সাদা পোশাকে মিশে থেকে, কেউ যাতে শ্লীলতাহানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার না হন, তা-ও খেয়াল রাখেন এঁরা, হামেশাই।
লালবাজার সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বড় পুজো কমিটি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছে, প্রশিক্ষিত মহিলা পুলিশকর্মী আলাদা করে মোতায়েন করার জন্য। তাঁদের সঙ্গেই যোগ্য সঙ্গত করবে উইনার্স টিম।

Be the first to comment