রোজদিন ডেস্ক : তুমি ডিলিমিটেশান কেন করছো, বাংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করছো, ৪ মে তোমাদের মুখোশ টেনে খুলে দেবো। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একই বন্ধনীতে বসিয়ে হুঙ্কার দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মাথাভাঙার ঘোকসাডাঙায় তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মণের সমর্থনে জনসভা করেন মমতা। সোখানেই তিনি বলেন, তোমরা দেশটাকে কেটে কেটে খণ্ড করার চেষ্টা করছ। মহিলাদের অসম্মান করছো। ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও বিজেপিকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, ডিলিমিটেশন বিল আর মহিলা সংরক্ষণ বিল আলাদা। কেন এক সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে? আমি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিয়ে লড়াই করেছি। আমাদের দল লড়াই করছে। এরপর এনআরসি করবে। চার তারিখ তোমাদের মুখোশ টেনে খুলে দেব। দলের প্রার্থীকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, এখানে একজন অধ্যাপককে প্রার্থী করেছি। আপনারা কাকে ভোট দেবেন? একজন গুন্ডাকে নাকি একজন অধ্যাপককে। নাম না করে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাল মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে সবাইকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে। যাঁরা বলছে তাড়িয়ে দেবে, তাঁদের আমি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেব। বাংলা জিতে দিল্লি দখল করব।
মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, এত যখন কাজের ইচ্ছা, তখন ভোটের আগে করোনি কেন? এখন ফর্ম ফিল আপ করাচ্ছে। ফর্মে আপনাদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ভুলেও দেবেন না। যেটুকু ছিল, তাও লুট করে নেবে। আমার হাতে আইনশৃঙ্খলার ভার এখন না থাকলেও আগামী দিনে থাকবে। ভোট এলেই কোচবিহারে অশান্তি কেন হবে? শুনেছেন তো, নাম বাদ দেওয়ার জন্যই যে এসআইআর, কাল শাহ তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন। বুথে বসার লোক নেই। এজেন্সিকে দিয়ে ফর্ম পূরণ করাচ্ছে। এখানে টাকার ভান্ডার নিয়ে এসেছে। অর্থমন্ত্রীকে নিশানা করে মমতা বলেন, একটা নির্লজ্জ অর্থমন্ত্রী। এখন এসে কার্ড বিলি করছে। ভারত সরকার আজ পর্যন্ত কোচবিহারের মানুষের জন্য একটা কাজ করতে পারেনি। ছিটমহল অধিগ্রহণ আমি করে দিয়েছিলাম। আপনারা সম্মান, নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচছেন। বিজেপি অত্যাচারী, রাজবংশী বিরোধী, মহিলা বিরোধী, আদিবাসী বিরোধী, সংখ্যালঘু বিরোধী একটা দল।

Be the first to comment