রোজদিন ডেস্ক : পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গত কয়েক দিন ধরেই তিনি এই সব দুর্গত এলাকার ত্রাণ ও পুর্নবাসনের কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি। পরশু হাসিমার গেছেন। গতকাল গেছিলেন নাগরাকাটা, চালসা মাল ও কার্সিয়ং। সব জায়গায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন, স্বজনহারাদের দিকে সমানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন। এই বিপদের দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কিছুটা হলে ও হাসি ফুটেছে দুর্গত মানুষজনদের। তাঁর আশ্বাস তাঁদের বেঁচে থাকার লড়াই -এ প্রেরণা যোগাচ্ছে। আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং যাবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ মুখ্যমন্ত্রী ধস কবলিত মিরিক, সুখিয়াপোখরির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

দুর্গত এলাকায় সহায়তা না করে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে সুর চড়ান কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি, বিরোধীদের বিরুদ্ধেও।
তাঁর অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে পুনর্বাসন সহ সব কিছু তাঁরাই করছেন, করবেন ও, অথচ কেউ কেউ (পড়ুন বিজেপি) এই সব নিয়ে রাজনীতি করছে। ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়িতে যখন তিনি যান, ত্রাণ দিতে কেউ আসেনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রত্যেকের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। বিরোধীদের তোপ দেগে বলেন, কেউ কেউ মানুষকে হতাশ করছেন। এই সব না করে তাঁদের কাজ করার জন্য বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই ভয়াল দুর্যোগে মিরিকে এক পরিবারের দুজন প্রাণ হারান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেন, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি তৈরির জন্য ও ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেন।
সুখিয়াপোখরিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা ইত্যাদি খতিয়ে দেখেন।
মানুষ বিপদে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হয় জানিয়ে বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, একদিন ঘুরে ছবি তুলে সবাই পালিয়েছে। তাদের আর কি দেখা গেছে বলে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, তাঁরাই সব করছেন, কেন্দ্রের কোন ভূমিকাই নেই, পরন্তু রাজনীতি করছে। তিনি মিরিক যাবেন না বলে খবর রটানো হয়েছে বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন,তাঁরা একবার ত্রাণ দিয়ে পালিয়ে যান না। এটা তাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ বলে জানান। এই সব ত্রাণ পুনর্বাসনের কাজ করে তাঁরা দয়া করছেন না বলে বিজেপিকে ঠোকেন তিনি। বলেন, ওরা শুধু মুখে বড় বড় কথা বলে আর রাজ্য, সরকারের বদনাম করে। তিনি ওদের সঙ্গে নেই, আছেন মানুষের সঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রী আজ পাহাড়ের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র লামাহাটার কাছে পশুপতিতে একটি পরিবেশ পর্যটন কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেন। তাঁর আশা, এখানেও অনেকে আসবেন।

আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং এজিটিএ, পুলিশ, প্রশাসনের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন। জিটিএ পাহাড়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে। আগামীকাল তাদের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে এর বিশদ তথ্য দেওয়া হবে বলে প্রকাশ।

Be the first to comment