রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাঁধেকাঁধ রেখে এককাট্টা লড়াইয়ের বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ারও বার্তা দিলেন মমতা। এছাড়াও, বিভ্রান্তমূলক বা প্ররোচনামূলক খবর না ছড়ানোর আবেন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গিঘাঁটি মিসাইল হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই প্রত্যাঘাত চালানো হয়েছে। ভারত এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার আবহে বুধবার দুপুরে দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে ভার্চুয়ালি জরুরি বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই ভার্চুয়ালি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এরপরই এদিন সন্ধ্যায় নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাঁধেকাঁধ রেখে এককাট্টা লড়াইয়ের বার্তার পাশাপাশি, রাজ্যবাসীকে একগুচ্ছ বিষয়ে সতর্ক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থে সকলকে এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোনও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার করা যাবে না। সেটা সোশ্যাল মাধ্যম হোক বা মিডিয়া, কোথাওই নয়।” সেখানে তিনি বলেন, ‘অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিভ্রান্ত হবেন না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নজর রাখছেন।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দেশের পক্ষে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে একসঙ্গে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিন মমতা বলেন, এখন দেশকে রক্ষা করার সময়। সেই সঙ্গে মমতা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখার জন্য পুলিশ, ডিএম, এসপি-সহ থানার আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়েছে। শীঘ্রই ২৪ ঘণ্টার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে শাহ’র সঙ্গে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, গোপনীয়তার জন্য সেই সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি মমতা।
এমন পরিস্থিতির সুযোগ নেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। পণ্য মজুত করে কালোবাজারি শুরু করে। তাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। রাজ্যে যাতে এমন অবস্থা তৈরি না হয়, আমজনতা যাতে কালোবাজারির ফাঁদে না পড়ে, তাই আগামিকাল, বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিকালে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে তিনি বলেন, “যাতে দাম বাড়াতে না পারেন ব্যবসায়ীরা, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সকলের দায়িত্ব আছে।” সবমিলিয়ে অস্থির পরিস্থিতিতে প্রকৃত অভিভাবকের মতোই রাজ্যবাসীর পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, জরুরি পরিস্থিতির কারণে এখন থেকে সরকারি সমস্ত দফতরের ছুটি বাতিল করা হল। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বেসরকারি স্কুলগুলির কাছেও এই সময় স্কুল বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, লিখিত কোনও গাইডলাইন পাঠাচ্ছি না। এটা আমাদের আবেদন। সরকারি স্কুলগুলোকে ছুটি দিয়ে দিয়েছি। বেসরকারি স্কুলগুলোও যদি ছুটি দিয়ে দেয়। আপনারা আপনাদের ছুটিটা রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন থেকে করে দিল ভাল হয়। বাচ্চারা বাড়িতে থাকুক।

Be the first to comment