রোজদিন ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে যিনি ভারতে বৈচিত্র্যর কথা বলেন, তিনি দেশে এই বার্তা দেন না কেন? রবিবার আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবত কে বিঁধে এই প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল, আপ, আর জে ডি, এ আই এম এম প্রমুখ বিরোধী দলের নেতারা। নিউ ইয়র্কে মোহন ভাগবত বলেন, বৈচিত্রের মধ্যেই ঐক্য হোল ভারতের মূল সুর, এর ডি এন এ, যা সম্মানীয়, গ্রহণযোগ্য।
বিজেপি আর এস এস এস প্রধানের এই বক্তব্য কে স্বাগত জানিয়েছে।। উনি পৃথিবী কে হিন্দুত্বর প্রকৃত সত্য দেখিয়েছেন, বৈচিত্রের মধ্যে সহ্যশক্তি, ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন বলে বিজেপি মনে করে।
অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ প্রশ্ন তোলেন, আর এস এস প্রধান দেশে বিজেপি ও তাদের সংগঠন দের এই বার্তা কেন দেন না? এখানে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ান।
সাংসদ কপিল সিবাল ভাগবত কে বিঁধে বলেন, কে এই কথা বলছেন তিনি বুঝতে পারছেন না। রাহুল গান্ধী নাকি মোহন ভাগবত? বিদেশে যিনি বৈচিত্রের কথা বলেন, এখানে তা বলেন না কেন?
কংগ্রেস মুখপাত্র শামা মহম্মদ মোহন ভাগবত কে মিথ্যা কথা বন্ধ করতে বলেন। জানান, আর এস এসের ডি এন এ ই হোল ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা।
কেন উনি ভারতে এই সব বলেন না প্রশ্ন তুলে শামা মহম্মদ বলেন, ভি এইচ পি,বজরঙ দলের মত আর এস এসের শাখা সংগঠন গুলি অহরহ ই মুসলমানদের আক্রমণ করে। তারা খ্রিস্টান দের ও ছাড়ে না। বিজেপি রাজ্য সরকার গুলি মুসলমানদের হেনস্থা করে, তাঁদের বাড়ি বুলডোজার চালায় বলে তিনি তোপ দাগেন।
তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ মোহন ভাগবতের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ওঁদের সংগঠন গুলির কাজ ই হোল মসজিদের মধ্যে মন্দির ছিল কিনা খুঁজে দেখা। লোকসভায় বিজেপি র কোন মুসলমান সাংসদ নেই বলে মন্তব্য করেন।
মিম নেতা সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়াইসি ও ভাগবত কে ঠুকে বলেন, এটা আর এস এসের পুরানো কৌশল। কিছু কথা বিদেশের জন্য, বাকিটা এখানে।
কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন ও বলেন, ভাগবত বিদেশে সব মানুষ এক বলেন, আর দেশে বিদ্বেষ, ঘৃণা ছড়ান।
তিনি জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাস্থল শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ তুলে আর এস এসের তীব্র সমালোচনা করেন। আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, ভাগবতের হৃদয় বদল হলে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। অনুরাগ ঠাকুর, কপিল মিশ্র র নাম করে অভিযোগ করেন, ওঁরা কিভাবে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।সিপি আই নেতা ডি রাজা মোহন ভাগবত কে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, নিউ ইয়র্কে উনি যা বলেছেন, দেশের মাটিতে ও তাই বলুন।

Be the first to comment