রোজদিন ডেস্ক : কোনওদিন ভাবিনি ধরমজির জন্য স্মরণসভার মত কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এটা বলে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বলিউডের ড্রিমগার্ল হেমামালিনী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে জীবনসঙ্গী ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠল হেমার চোখের জলে। প্রায় অর্ধ শতাব্দীর সঙ্গীকে হারিয়ে আজ বড়ই একা হেমা। সেই অবস্থাতেই আলাদা করে দিল্লিতে ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভার আয়োজন করেছিলেন মথুরার বিজেপি সাংসদ। কারণ, ধরমজির মৃত্যুর পরই শুরু হয়েছে দেওল পরিবারে টানাপোড়েন। ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও দুই ছেলে সানি ও ববি মিলে কদিন আগেই মুম্বইতে স্মরণসভার আয়োজন করেছিলেন একরকম হেমাকে ব্রাত্য রেখেই।
ধর্মেন্দ্র মারা যাওয়ার পর থেকে দেওল পরিবারের অন্দরের সংঘাত নাকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এ সব নিয়ে কোনওদিনও তাঁকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে শোনা যায়নি। তবে আজ তাঁর কথায় সেই হতাশা বেরিয়ে এসেছে। বলেন, ধরমজির প্রথম স্ত্রী থাকা সত্বেও তাঁদের কোনও সমস্যা হয়নি। কারণ, তাঁদের দু’জনের ভালোবাসা ছিল অটুট। তিনি ওই একজন পুরুষের কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন।
উঠে আসে তাঁদের দীর্ঘ পথ চলার কথা। বলেন, ১৯৮০ সালে ধরমজিকে বিয়ে করার পর থেকে অনেক চড়াই, উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে তাঁদের সম্পর্ক। কিন্তু এ নিয়ে প্রকাশ্যে একটি শব্দও করেননি হেমা। ধর্মেন্দ্র তাঁর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ না করেই হেমাকে বিয়ে করেন। তার জন্য নিজের ধর্মও পরিবর্তন করতে হয় ধর্মেন্দ্রকে। দুটি সম্পর্ক থাকার ফলে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, জটিলতা, টানাপড়েন কিছু কম ছিল না। কিন্তু সত্যিটা জানার পরও তিনি কখনও ধর্মেন্দ্র বা তাঁর পরিবারকে বিরক্ত করেননি।অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি কাউকে কোনওদিন বিরক্ত করতেই চাননি। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন ভালবাসায় কোনও আশা রাখতে নেই, বরং সমর্পণ করতে হয়। আর তিনি সেটাই করেছিলেন। এটাই ছিল হেমা আর ধরমজির সম্পর্কের রসায়ন।

Be the first to comment