রোজদিন ডেস্ক : আগামী ৬ নভেম্বর বিহারে প্রথম দফার ভোট। প্রার্থী বাছাই পর্বও মোটামুটি শেষ। দু’দফায় ২৪৩ আসনে নির্বাচন। যুযুধান দু-পক্ষ আরজেডি, কংগ্রেস জোট, অন্যদিকে বিজেপির দোসর নীতিশের জেডিইউ। প্রধান দুই শক্তির মধ্যে এতদিন স্পষ্ট ছিল ভোটের মেরুকরণ। কিন্তু এবার ছবি একটু ধোঁয়াটে। দুই শিবিরই আশঙ্কায়, এক নতুন শত্রুর আবির্ভাবে। মুখ্যমন্ত্রী পদে রাজ্যবাসীর পছন্দের মুখ কে, এই নিয়ে সি ভোটারের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফলে ফের নতুন করে ভোটের অঙ্ক কষতে হচ্ছে নীতিশ, তেজস্বীদের। প্রশ্ন হচ্ছে কে, এই নতুন শত্রু? এতদিনে সবার জানা তিনি হলেন জনপ্রিয় ভোটকৌশলী পিকে বা প্রশান্ত কিশোর। বিহারের সন অফ দ্যা সয়েল। এতদিনের পেশা ছেড়ে এবার নতুন দল গড়ে রাজনীতির ময়দানে একদা দেশের পয়লা নম্বর ভোটগুরু। আর এতেই বিহারী ভোটের সব অঙ্ক গুলিয়ে যেতে বসেছে যুযুধান দুই শিবিরের। সি ভোটারের সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা বলছে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিহারবাসীর পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন আরজেডি প্রধান লালু-পুত্র তথা রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। ৩৬.২ শতাংশের সমর্থন রয়েছে তাঁর দিকে। এরপরই টুইস্ট! ২৩.২ শতাংশ ভোটদাতার সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে চমকে দিয়েছেন সদ্যগঠিত জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশান্ত কিশোর। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মাত্র ১৫.৯ শতাংশ ভোটারের সমর্থনে ঠাঁই পেয়েছেন তিন নম্বরে।সি ভোটারের সমীক্ষায় পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিজেপির আর এক সহযোগী লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-র প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তাঁকে পাটনার কুর্সিতে দেখতে চান ৮.৮ শতাংশ ভোটদাতা। এই সমীক্ষা রিপোর্ট বাজারে পড়তেই ঘুম উড়েছে সব শিবিরের। মোদ্দা কথা পিকেই এবার বিহারের ভোটে এক্স ফ্যাক্টর। এখন প্রশ্ন, তিনি কি ক্ষমতায় আসতে পারবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসম্ভবও নয়। উদাহরণ তো রয়েইছে, টিডিপি অথবা আম আদমি পার্টি। তাই আগামী কয়েকদিন এখন নজর থাকবে মগধভূমের দিকেই।

Be the first to comment