রমিত সরকার, নদীয়া :
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময় পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন প্রিয়দাসী বিশ্বাস। বয়স দাঁড়িয়েছে পঁচাত্তর। তবু ভিটে হারানোর ভয় আজও পিছু ছাড়ছে না তাঁর। এসআইআর ফর্ম না পাওয়ায় আশঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।
বাংলাদেশের নাগড়ায় শ্বশুরবাড়ি। খুব অল্প বয়সেই বিয়ে, তারপর স্বামীর মৃত্যু। মুক্তিযুদ্ধ, মুজিবর রহমানের হত্যাকাণ্ড— সব নিজের চোখে দেখা। সেই অস্থির সময়েই ভাশুরের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসেন প্রিয়দাসী। ঠিক কোন বছরে এসেছেন, স্মৃতিতে আজ অস্পষ্ট। শুধু মনে আছে— বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরই পালাতে হয়েছিল।
ধুবুলিয়ার বাই চার এলাকায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে থাকেন তিনি— এক চিলতে টিনের ঘর, সামনে ছোট্ট আঙিনা। রেশনকার্ড, আধার, ব্যাঙ্কের বই— সবই আছে। নেই শুধু ভোটার তালিকায় নাম। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত ভোট দিলেও সংশোধন তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যায়। তারপর আর ফিরিয়ে আনতে পারেননি। সেই কারণেই এসআইআরের ভিত্তিবর্ষ ২০০২-র তালিকায় তাঁর নাম নেই। ফলে, ফর্মও হাতে আসেনি।
বৃদ্ধা খোলাখুলি বললেন, “আমি তো আগে ভোট দিতাম। তারপর নামটাই কেটে দিল। এখন ফর্মও পাইনি। এখানে থাকতে পারব কি না, সেই চিন্তায় আছি।”
স্থানীয় বিজেপি নেতা ও কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি রঞ্জন অধিকারীর কথায়, বহুবার চেষ্টা করেও তাঁর নাম ফেরানো যায়নি ভোটার তালিকায়। সেই কারণেই এসআইআর তালিকাতেও জায়গা হয়নি প্রিয়দাসীর।
মুক্তিযুদ্ধের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রিয়দাসীর জীবনের শেষ প্রান্তে আবারও হানা দিয়েছে পুরোনো আতঙ্ক— এই ভিটে-ও কি তবে টিকবে না?

Be the first to comment