হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আজ হালিশহরে যাওয়া নিয়ে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গতকাল ওখানে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল নেতা বিরজু কেওটের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। আজ এর প্রতিবাদে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওখানে যান। কিন্তু তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই তুমুল জনরোষ আছড়ে পড়ে।

তাঁকে লক্ষ্য করে, চোর, ডাকাত রাণি সহ বাছাই করা বিশেষণ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়িতে জুতো, চটি ইত্যাদি ছোঁড়া হয়। দুপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওখানে পৌঁছেছেন। তিনি নিহত বিরজু কেওটের বাড়ি যান। তাঁর সঙ্গে কল্যাণ ব্যানার্জি, দোলা সেন প্রমুখ আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এই তুমুল বিক্ষোভের ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানান মমতা ব্যানার্জি। তীব্র কন্ঠে অভিযোগ করেন, লুম্পেনদের নিয়ে পুলিশ তাঁর গাড়িতে বিরাট পাথর মেরেছে। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, ওঁর মদতে এই সব চলছে।

পুলিশ হেফাজতে মৃত বিরজু কেওটের স্ত্রী জেনি কেওট শর্মা কাঁচড়াপাড়া পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে তাঁর স্বামীকে মৃত অবস্থায় হালিশহর থানার লক আপে উদ্ধার করা হয়।

তাঁর স্ত্রী, পরিবারের অভিযোগ পুলিশ তাঁকে পিটিয়ে মেরেছে। তৃণমূল এর প্রতিবাদে সরব হয়েছে।

আজ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মৃত তৃণমূল নেতার বাড়ি যাওয়ার খবর মিলতেই এলাকায় তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। বহু মানুষ পথে নেমে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, গত পনের বছরে রাজ্যকে সব দিকে ধ্বংস করেছেন উনি। বিরজু কেওটের মৃত্যুতে তাঁরা সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের শান্ত এলাকাকে অশান্ত করতে এসেছেন বলে তাঁরা সমস্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে চোর, ডাকাত রানি ইত্যাদি বলেন, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, ইঁট, পাথর, চটি, জুতো ইত্যাদি ছোঁড়া হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। তাঁরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খান। কোনক্রমে মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর সঙ্গীদের মৃত বিরজু কেওটের বাড়ি নিয়ে যান।

কিন্তু ফেরার সময় ও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয় নি। বহু মানুষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, মমতা ব্যানার্জি কে আজ মারার চেষ্টা হয়েছে। তিনি এই সবের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে নিশানা করে বলেন, ওঁর নেতৃত্বে রাজ্যে মাফিয়া রাজ চলছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মমতা ব্যানার্জি, দোলা সেন প্রমুখ অভিযোগ করেন, ওঁকে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে। তাঁরা এর বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

মৃতর এক ভাই বলেন, তাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে হাত জোড় করে বলেছেন, স্থানীয় ভাবে এর ফয়সালা হোক তাঁরা চান। পরিবারের অন্য রাও মুখ খুলতে চাননি। বলেন, গ্রেফতারের সময় বিরজু কেওট সুস্থই ছিলেন, পুলিশের অত্যাচারেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁরা এর বিচার চান। তদন্তের দাবি করেন।

ওঁরা স্বামী, স্ত্রী ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ রাজনীতি করতেন না বলেও তাঁরা জানান।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, থানার লক আপে নিরীহ বিরজুকে পিটিয়ে মারার পর স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এসে তাঁর পরিবারকে ভয় দেখিয়ে গেছেন।

কল্যাণ ব্যানার্জি চিৎকার করে বলেন, মমতা ব্যানার্জিকে আজ পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে মারার চেষ্টা হয়েছিল, ওঁর গায়ে হাত পড়লে রাজ্যে আগুন জ্বলবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তুমুল বিক্ষোভ, উত্তেজনার মাঝে পুলিশ কোন ক্রমে তাঁদের গাড়িতে তুলে রওনা করিয়ে দেয়। তখনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ ক্ষোভ, রাগে ফুঁসছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*