সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে মুখে কুলুপ প্রধানমন্ত্রীর, প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : একদা রাজ্যের শাসকের “যুদ্ধ ক্ষেত্র” বলে কথিত সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী কি বার্তা দেন, আজ সিঙ্গুর-সহ সারা রাজ্যের মানুষ সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল হলে শিল্প আসবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানালেও সিঙ্গুরবাসী এতে হতাশ। তাঁদের সিংহ ভাগের আশা ছিল, টাটা গোষ্ঠীর ছেড়ে যাওয়া এই ভূমিতে আবার শিল্প হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু আশ্বাস দেবেন। গত কদিন ধরে একাধিক বিজেপি নেতার কথায় তাঁরা আশান্বিত হয়েছিলেন। কিন্ত সিঙ্গুরবাসী, এমন কি রাজনৈতিক মহলকেও হতাশ করে এই নিয়ে টুঁ শব্দও প্রধানমন্ত্রী না বলায় বিজেপির একাংশ রীতিমত হতাশ। কেন মোদিজি কিছু বলেননি, তা নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশাল ওই ভূমি এখন অনাবাদী। যাঁরা জমি ফেরত পেয়েছেন, তা চাষযোগ্য হয়নি। এখন ওখানকার ইচ্ছুক অনিচ্ছুক সব মহলই শিল্প চান। তাঁদের আশা ছিল, রাজ্যে পালাবদল হলে এখানে শিল্প সম্ভাবনার কিছু স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখাবেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে পালটানোর ডাক দেওয়া সহ শাসক দলের সমালোচনা ইত্যাদি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি “মিথ্যার জমিদারি” বলে তোপ দাগেন। বলেন, ওঁর বক্তব্য “বলছে ঝুট, করছে লুট ” নীতির প্রতিফলন।
সিঙ্গুরের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি শব্দও খরচ করেন নি, যা এই রাজ্যের প্রতি তাঁর উদাসীনতারই প্রমান। দুর্গাপুজোয়
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকেও তুলোধুনো করে কুণাল ঘোষ বলেন, এর জন্য সব নথি তৈরি, তা জমা দেওয়া সহ সব কাজই রাজ্য সরকার করেছে, এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিরই বলে তিনি জোর গলায় দাবি করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস, সিপিএম সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও।
কংগ্রেস আজ এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ায়। তাঁদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে সরকারি কলকারখানা, বেসরকারিকরণ ইত্যাদি চলছে। বিজেপি দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। রাজ্যের মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি।
সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির আইন শৃঙ্খলা কি? কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকদের খুন হতে হয়? কেন এখানে দুর্নীতির তদন্ত হয়েও দোষীদের শাস্তি হয় না? এখানে টিএমসিকেই উনি সেফ প্যাসেজ দিয়ে গেলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিপিআইএমএল নেতা পার্থ ঘোষ বলেন এর আগেও নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এসে অনেক কথা বলে গেছিলেন, কিছুই হয়নি। সিঙ্গুরের পরিযায়ী শ্রমিক সইদুল্লাকে কেন ইউপিতে খুন হতে হয়?
তবে সব কিছুই ছাপিয়ে উঠেছে সিঙ্গুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা। যা নিয়ে হতাশ বিজেপি র বহু নেতা কর্মীই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*