নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: রাজ্যে এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম শ্যামল কুমার সাহা (৭০)। তিনি নদিয়ার তাহেরপুর থানার অন্তর্গত কালীনারায়নপুর পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণচকপুর মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন শ্যামলবাবু। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই উদ্বেগই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্যামলবাবু। চিকিৎসার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাড়িতে রেখে গিয়েছেন স্ত্রী, দুই ছেলে এবং দুই বৌমাকে। পরিবারের দুই ছেলে রাজ্যের বাইরে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ফলে পরিবারের রোজগারের অন্যতম ভরসা ছিলেন শ্যামলবাবু। শীতকালে তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পোশাক ফেরি করতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শ্যামলবাবুর নাম না থাকলেও পরবর্তীকালে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, এমনকি বাড়ির দলিল পর্যন্ত রয়েছে তাঁর নামে। তবুও এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তিনি। মৃতের স্ত্রী জানান, “ও খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সারাক্ষণ চিন্তায় ডুবে থাকতেন। বারবার বোঝানোর পরও বিশ্বাস করতেন না যে কিছু হবে না।”
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী বলেন, “ওনার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। পরে নাম তোলা হয়। সব নথি ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু ও চিন্তায় কাবু হয়ে পড়েছিলেন।”
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও পঞ্চায়েত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তাঁরা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনও সরগরম। বিরোধীরা এই মৃত্যু নিয়ে সরকারের ভূমিকা ও তালিকা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শ্যামল কুমার সাহার মৃত্যুতে ফের নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে নদিয়ায়।

Be the first to comment