দুই দেশের নাগরিক এক দম্পতি! বাংলাদেশের শিক্ষক, আবার ভারতের সুবিধাভোগী — নদিয়ার বগুলায় চাঞ্চল্য

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া:
এক দম্পতি নাকি দুই দেশের নাগরিক—এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র আলোড়ন নদিয়ার বগুলায়। পড়শি দেশের নাগরিক হয়েও ভারতের মাটিতে সরকারি সুযোগসুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরেও আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ এনেছেন কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়া নাঘাটা এলাকার গৃহবধূ মৌসুমি বিশ্বাস। বছরখানেক আগে তাঁর বিয়ে হয় বগুলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে। বিশ্বজিৎ কলকাতা পুরসভার কর্মী বলে দাবি মৌসুমির। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। মৌসুমির অভিযোগ, রোগ গোপন করে বিয়ে করেছিলেন বিশ্বজিৎ। সে কথা জানাজানি হতেই অশান্তি শুরু হয়, এবং পরবর্তীতে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এরপরই মৌসুমি হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর শ্বশুর সুনীল বিশ্বাস বাংলাদেশের নাগরিক। ননদ শিউলি বিশ্বাস এবং তাঁর স্বামী, অর্থাৎ মৌসুমির স্বামী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস—দু’জনই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দির বাসিন্দা। পেশায় তাঁরা দু’জনেই স্কুলশিক্ষক। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁরা ভারতের ভোটার তালিকাতেও নাম তুলেছেন। এমনকি রাজ্য সরকারের “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্প-সহ একাধিক সরকারি সুবিধাও নিচ্ছেন বলে অভিযোগ গৃহবধূর।

অভিযোগ আরও গুরুতর—দু’জনের দুই সন্তানকে নাকি নদিয়ার গাড়াপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখানো হয়েছে। প্রতি বছর তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠে যাচ্ছে, অথচ তাদের মূল বসবাস বাংলাদেশে এবং পড়াশোনাও সেখানে।

গৃহবধূর আরও দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শ্বশুর সুনীল বিশ্বাস নাকি মেডিক্যাল ভিসা করে বাংলাদেশ থেকে এসে বগুলার বাড়িতে অবস্থান করছেন। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে “এসআইআর” (Suspicious Identity Report) আবহে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে এলাকায়।

যখন ওই পরিবারের শাশুড়ি জবারানি বিশ্বাসের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার কোনো মেয়ে নেই, দুই ছেলেই আছে।” কিন্তু আশেপাশের প্রতিবেশীদের দাবি, জবারানি দেবীর আসলেই এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা অনুপ দাস বলেন, “একই ব্যক্তি যদি দুই দেশে বসবাস করে, দুই দেশের সুবিধা নেয়, সেটা চরম বেআইনি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
অন্যদিকে বিজেপির জেলা নেতা অমিত প্রামাণিকের বক্তব্য, “যা নিয়ে এতদিন সতর্ক করছিলাম, সেটাই আজ প্রমাণিত হলো। দুই দেশের নাগরিক হয়ে সুবিধা নেওয়া একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। এই কারণেই এসআইআর প্রয়োজন।”

পুরো ঘটনাটি এখন তদন্তের দাবি তুলেছে রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষ—আসলেই কি বাংলাদেশের নাগরিক এই পরিবার? না কি সবটাই এক গৃহবিবাদের ফসল? সেই উত্তর খুঁজতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*