রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পশ্চিমবঙ্গে বাড়িতে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানো নিষিদ্ধ করার কয়েক দিন পরই, রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বুধবার বিধানসভায় বলেছেন যে ইতিমধ্যে বসানো স্মার্ট মিটারগুলিকে সাধারণ মিটারের মতো বিবেচনা করা হবে এবং ভোক্তাদের প্রতি তিন মাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একাধিক জেলায় স্মার্ট মিটার নিয়ে দফায় দফায় ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে। পথ অবরোধ থেকে বিরোধীদের ডেপুটেশনও বাদ যায়নি। এই অবস্থায় আপাতত স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ করতে চলেছে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর।
একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে সফলভাবে স্মার্ট মিটার বসানোর পরেও গৃহস্থ বাড়িতে এই মিটার নিয়ে ‘কিছু অভিযোগ আসায়’ আপাতত মিটার লাগানো বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে বিধানসভায় বিদুৎমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী গৃহস্থালি বিদ্যুৎ ভোক্তাদের জন্য এই মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বেশ কিছু সমস্যার অভিযোগ আসার পরই এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
এদিন বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “গৃহস্থালি বিদ্যুৎ ভোক্তাদের জন্য প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ কেন্দ্রীয় সরকার জোরপূর্বক চাপিয়ে দিয়েছিল। আমি এই কাজ বন্ধ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে বসানো সমস্ত স্মার্ট মিটার এখন সাধারণ মিটার হিসেবে গণ্য হবে এবং ভোক্তাদের আগের মতোই তিন মাসে একবার বিল পরিশোধ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তীব্র প্রতিরোধ ও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়েছে সরকারকে। এরপর সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর রাজ্যের বিদ্যুৎ বিভাগ একটি আদেশে জানায় যে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া এখনই বন্ধ থাকবে।
জানা গেছে, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও বর্ধমানের মতো জেলা থেকে বিক্ষোভের খবর আসছিল, যেখানে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন যে স্মার্ট মিটার স্থাপনের পর তাদের বিল দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে গেছে।

Be the first to comment