রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বদল নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্য-এর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ ঘনীভূত হয়েছে। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সোমনাথ দত্ত।
দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, নথি সংক্রান্ত কিছু ত্রুটির জেরে অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই বিকল্প হিসেবে সোমনাথ দত্তকে সামনে আনা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কৃষ্ণনগর উত্তর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি অয়ন দত্ত-কেও জেলা শাসকের দফতরে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কিছু বলতে চাননি। সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে জানান, “সময় এলেই সব জানা যাবে।”
রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, প্রয়োজনে সোমনাথ দত্তকে তৃণমূলের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসেবেও মাঠে নামানো হতে পারে। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।
উল্লেখ্য, এদিনই ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এবার নির্বাচন কমিশনের তরফে সমস্ত মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি শুরু হবে। সেই প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, একই কেন্দ্রে বিরোধী শিবিরেও অস্থিরতা কম নয়। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তারক চট্টোপাধ্যায়-এর নাম ঘোষণার পর দলের একাংশের আপত্তি সামনে আসে। সেই জেরেই নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন চঞ্চল বিশ্বাস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে হাজির হন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার।
সব মিলিয়ে প্রার্থী অদলবদলের জল্পনা, দলীয় দ্বন্দ্ব এবং নির্দল প্রার্থীদের সক্রিয়তা—এই তিনের মিশেলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিবেশ। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনির দিকে—সেখানেই নির্ধারিত হবে কে থাকছেন, আর কে ছিটকে যাচ্ছেন নির্বাচনী লড়াই থেকে।

Be the first to comment