মোহনবাগানের স্বার্থে একজোটে সৃঞ্জয় – দেবাশিস, বাদ পড়ল সিপিএমের সঞ্জয়

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বন্ধুত্ব শত্রুতায় রূপান্তরিত হওয়ার পরেও ফের আবার মিত্রতার খোলসে হাত ধরাধরি। মোহনবাগান মাঠে এখন ফিলগুড আবহাওয়া। নির্বাচন নয়, যুযুধান দুই পক্ষ হাত মিলিয়ে আগামী তিনবছর একযোগে সবুজ মেরুন প্রশাসন চালানোর অঙ্গীকার করলেন।
সোমবার ছিল মোহনবাগান নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিন। সৃঞ্জয় বসু এবং তাঁর গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র জমা দেন। দেবাশিস দত্তর গোষ্ঠীও তাদের মনোনয়ন জমা দেন। সচিব পদে একমাত্র মনোনয়ন সৃঞ্জয় বসু। দেবাশিস দত্ত মনোনয়ন জমা দেননি। বাইশ সদস্যের নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে আসতে চলেছেন দেবাশিস। কার্যত তিন দশক ধরে সভাপতি হিসেবে পদে টুটু বসু থাকার পরে সবুজ মেরুন সভাপতির পদে পালাবদল।
কয়েকমাস ধরে মোহনবাগান নির্বাচন ঘিরে গড়ে ওঠা ঢক্কানিনাদ এখন মূষিক প্রসবে প্রমাণিত। একদা বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কিনারায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেল পর্দার আড়ালে থাকা তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগে বা নির্দেশে। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করলেন দেবাশিস দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু। পাশে বসেছিলেন শৌমিক বসু।
সৃঞ্জয় বসু বলছেন, “সব জায়গায় গণতন্ত্র থাকা উচিত। গণতন্ত্র না হলে সদস্যদের সঙ্গে যোগসূত্র থাকবে না। এই সদস্যদের সঙ্গে জনসংযোগ তৈরি করা। দুই পক্ষই নির্বাচন করেছি। কোনও বিরোধী পক্ষ না থাকলে গণতন্ত্র থাকত না। কোথাও একটা লাগাম দেওয়া উচিত। এই দুটো কমিটি আগেও একসঙ্গে কাজ করেছি। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য মাঝে আলাদা হয়েছিলাম। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়। দুই পক্ষ এতদূর এগিয়ে আগে কখনও এক হয়নি। মোহনবাগানের সেরা একাদশ গড়েছি। একসঙ্গে মিলেছি। ২২ জনের টিম। শ্রেষ্ঠ মোহনবাগান টিম।”
নতুনভাবে সচিব পদে বসতে চলা সৃঞ্জয় বসুর কথায়, “সব কিছুরই সময় আসে উপলব্ধি করার। এই সিস্টেম যদি ভালো কাজ করে।”
প্রায় একই সঙ্গে দেবাশিস দত্তর সংযোজন, “বিলম্বিত হওয়াতে সুবিধা হয়েছে সদস্যদের বক্তব্য আমরা শুনতে পেয়েছি। কোনায় কোনায় আমরা প্রচার করেছি। ফলে তারা কী চাইছে সেটা বুঝতে পেরেছি। তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করব।”
উল্লেখ্য ভাবে, ২২ জনের যে কমিটি মনোনয়ন জমা পড়েছে তাতে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় ঘোষের (বাপ্পা) নাম নেই। তাঁর বাদ পড়ার পিছনে রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করেছে বলা হচ্ছে। বিষয়টি মানতে রাজি নন দেবাশিস দত্ত। বলছেন, “বাদ কেউ যায়নি।”
প্রায় একই সঙ্গে নতুনভাবে সচিব পদে বসতে চলা সৃঞ্জয় বসু বলছেন, “২০১৮ সাল পর্যন্ত এই মোহনবাগান দলের অংশ ছিল বাপ্পা। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে সিপিএম-তৃণমূল দেখা উচিত নয়।”
মোহনবাগানের নতুন কার্যকরী কমিটির সাধারণ সচিব সৃঞ্জয় বসু, সহকারী সচিব – সত‌্যজিৎ চট্টোপাধ‌্যায়, কোষাধ‌্যক্ষ – সন্দীপন বন্দ‌্যোপাধ‌্যায়, অর্থ সচিব – সুরজিৎ বসু, মাঠ সচিব – শাশ্বত বসু, ফুটবল সচিব – স্বপন বন্দ‌্যেপাধ‌্যায়, ক্রিকেট সচিব – সম্রাট ভৌমিক, হকি সচিব – শ‌্যামল মিত্র, অ‌্যাথলেটিক্স সচিব – পিন্টু বিশ্বাস, টেনিস সচিব – সিদ্ধার্থ রায়, যুব ফুটবল সচিব – শিল্টন পাল।
কর্মসমিতির সদস্য: মুকুল সিংহ, সোহিনী মিত্র চৌবে, সোমেশ্বর বাগুই, কাশীনাথ দাস, দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্ত ঘোষ, দেবজ্যোতি বসু, রঞ্জন বসু, পার্থ দাস, সঞ্জয় মজুমদার, ও অনুপম সাহু।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*