রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ভোর সাড়ে তিনটে পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতা উইলিয়ামস ও আরও তিন মহাকাশচারী। তাঁর সেই ফেরার মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে রাত জাগল তাঁর পৈতৃক গ্রাম গুজরাতের ঝুলাসান। সেখানে যেন শুরু হয়েছে অকাল দীপাবলি। ৯ মাস আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে কাটিয়েছেন সুনীতা উইলিয়ামস। বারবার অভিযান বাধা পাওয়ায় তাঁর ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছিল উৎকন্ঠা। নাসা-র তরফে সবরকম চেষ্টা চলছিল।
অবশেষে স্পেস এক্স ও নাসার যৌথ অভিযানে সুরক্ষিতভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন সুনীতা ও বুচ উইলমোর। তাঁরা ফিরে আসার আগে থেকেই বিশেষ আরতি ও প্রার্থনা শুরু হয় ঝুলাসানে। নাসার মহাকাশচারী তথা ভারতীয় বংশদ্ভুত সুনীতা উইলিয়মসের এক ভাই দীনেশ রাওয়াল আমেদাবাদে একটি যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন বোনের জন্য।
সাড়ে তিনটের সময় স্পেস এক্সের বিশেষ যান ফ্লোরিডার সমুদ্রে সফল ভাবে নামতেই একেবারে অকাল দীপাবলি দেখা যায় ঝুলাসানে। আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন ৮ থেকে ৮০ সমস্ত বয়সের মানুষেরা। রাতেই বাজি ফাটাতে দেখা যায় সেখানকার মানুষজনকে। এমনকী গানের তালে তালে চলে নাচও।
দেশের ভবিষ্যত আজকের ছোট বড় বাচ্চারাও সুনীতা কে আইডল মেনে নিয়েছে। প্রত্যেকটি বাচ্চাই আজ আনন্দিত হয়ে বলছে তারাও দেশের নাম এভাবেই উজ্জ্বল করতে চায়, তারাও অ্যাস্ট্রোনট হতে চায় সুনীতা উইলিয়ামস এর মতোই।
সুনীতার ঘরে ফেরার জন্য চলে বিশেষ পুজোপাঠও। ঝুলসানের মানুষরা বলছেন, আজ শুধুই দিওয়ালী হবে। উল্লেখ্য, সুনীতার বাবা দীপক পাণ্ডে গুজরাটের ঝুলাসানের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৫৭ সালে তিনি আমেরিকায় চলে যান। সুনীতার মা বনি জালোকার ছিলেন মার্কিন নাগরিক। বছর ২০ আগে মাইকেল জে উইলিয়ামসের সঙ্গে বিয়ে হয় সুনীতার। তবে সুনীতার ভারতের প্রতি টান যে রয়েছে, সে কথা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে।
মহাকাশ থেকে কুম্ভমেলার ছবি পাঠিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় এই দীর্ঘ ৯ মাস আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে তাঁর সঙ্গে একটি গণেশ মূর্তি ছিল বলেও জানিয়েছেন তাঁর এক বোন ফাল্গুনী পাণ্ডে। তিনি আরও জানান, ভারতীয় খাবার খেতেও খুব ভালবাসেন সুনীতা।

Be the first to comment