রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আজ ১ জুন, রবিবার জামাইষষ্ঠী! ৩১ মে রাত ১২টা ৩৪ মিনিট থেকে ১ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে এই ষষ্ঠী তিথি। ছুটির দিনে জামাই ষষ্ঠী পড়ায় এবার ষষ্ঠী উপলক্ষ্যে আর অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার ঝামেলা থাকল না জামাইদের।
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় এই জামাই ষষ্ঠী। বাঙালির ১২ মাসের ১৩ পার্বণের অন্যতম হল জামাই ষষ্ঠী। এই বিশেষ তিথিটি মূলত শাশুড়ি মা ও জামাইয়ের মধ্যে পালনীয় একটি বিশেষ তিথি। পঞ্জিকায় জামাই ষষ্ঠী অরণ্য ষষ্ঠী নামেও পরিচিত। মূলত বাঙালিদের অন্যতম সামাজিক প্রথা হিসেবেই জামাই ষষ্ঠী পালিত হয়।

বহুকাল আগে এই জামাইষষ্ঠীর দিনের জন্য বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শাশুড়ি মায়েরা এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে ষষ্ঠীর উপকরণ সংগ্রহ করতেন। এটাই নাকি নিয়ম ছিল। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সেই সমস্ত উপকরণ গুলি বাজারেই পাওয়া যায়। যেগুলি দিয়ে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তারপর জামাইকে বরণ করা হয়।
আজকের এই ষষ্ঠী তিথিতে ঘরে ঘরে প্রত্যেকটি সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন মায়েরা। এই ষষ্ঠীতে পুত্রসম জামাইকে বিশেষ আপ্যায়ন করা হয়ে থাকে। তাঁকে পাখার হাওয়া ও শান্তির জলের ছিটে দেওয়া হয়। কবজিতে বেঁধে দেওয়া হয় হলুদ মাখানো সুতো। তার সঙ্গে আম, কাঁঠাল, লিচু-সহ নানারকম ফল ও মিষ্টি দিয়ে সাজিয়ে ডালা তুলে দেওয়া হয় জামাইয়ের হাতে। সঙ্গে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র। এর পর আসে দুপুরের ভুরিভোজের পালা। থালা সাজিয়ে পাত পেড়ে বিভিন্ন রকম সুস্বাদু রান্না করে শাশুড়ি মায়েরা দুপুরের ভোজের জোগাড় করে থাকেন জামাইদের জন্য। এবং উপহার স্বরূপ জামাই তার শাশুড়ি মা এবং পরিবারের জন্য এবং শাশুড়ি মা জামাইদের জন্য নতুন বস্ত্র উপহার আদান-প্রদান করেন। এইভাবেই বাংলায় পালিত হয় আজকে জৈষ্ঠ্য মাসের এই জামাইষষ্ঠীর দিনটি।

এবার আসা যাক বাজার দরে।জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজের জন্য বাজার দর যেন আকাশছোঁয়া। এখন জামাই ষষ্ঠী শুধু যে বাড়িতে হয় তা নয় বিভিন্ন বড় বড় হোটেল রেস্তোরা বিশেষ করে ফাইভ-স্টার হোটেলে জামাইষষ্ঠীর আয়োজন হয়। তারা জামাইষষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন রকমের থালির ব্যবস্থা করেন। জামাই কে আশীর্বাদের সব রকম ব্যবস্থা ও মজুদ থাকে সেখানে। তবে বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারে এখনও বাড়িতে জামাইকে নিমন্ত্রণ করার চলই বেশি প্রচলিত। রবিবার ছুটির দিনে জামাইষষ্ঠী তার আগের দিনটি অনেকের ছুটি অথবা হাফ ছুটি ।শনিবার কলকাতার লেক মার্কেট কোলে মার্কেট মানিকতলা বাজার গড়িয়াহাট বাজার ঘুরে দেখা গেল শ্বশুর মশাইরা ব্যস্ত জামাইয়ের পছন্দের খাবার বাজার করতে l জিনিসপত্রের দাম অগ্নিমূল্য। যেমন – মাছ, মাংস, মিষ্টি, ফল মূল সবেতেই আগুন।
জামাইষষ্ঠীর মাছের বাজারে গোটা রুই মাছ প্রতি কিলো ১৪০-১৬০ টাকা, কাটা মাছের দাম প্রতি কিলো ২০০-২৫০ টাকা, গোটা কাতলা মাছ প্রতি কিলোতে ২৪০-২৬০ টাকা, কাটা কাতলার দাম প্রতি কিলো ৩০০-৩৮০ টাকা।
• ইলিশের দাম এখন আকাশছোঁয়া! ৫০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,০০০-১,২০০ টাকা কেজি দরে। ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে হচ্ছে ১৮০০-২,০০০ টাকা কেজিতে। তবে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ অধিকাংশ বাজারেই প্রায় নেই বললেই চলে।
• জামাইষষ্ঠীর বাজারে গলদা চিংড়ি কেজি প্রতি ৫৫০-৬৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি প্রতি কিলো ৭০০-৮০০ টাকা। পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পার্শে ৩৫০-৪০০ টাকা আর ভেটকি মাছ প্রতি কিলো ৫০০-৫৫০ টাকা, মাঝারি থেকে বড় মাপের পমফ্রেট মাছ ৫৫০-৭০০ টাকা কিলো।
গোটা মুরগির মাংস প্রতি কিলো ১৩০-১৪৫ টাকা, কাটা মুরগির মাংসের দাম ২৪০-২৫০ টাকা কিলো, খাসির মাংস ৭২০-৮০০ টাকা কিলো।
এছাড়া ফলের মধ্যে জামাইষষ্ঠীর বাজারে আমের দাম রাতারাতি বেড়ে গিয়েছে। ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি ৬০-৮০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে এখন ১০০-১৫০ টাকা কেজিতে বিকোচ্ছে। কেজিতে ৮০-১০০ টাকা দরেও আম পাওয়া যাচ্ছে।
তাই সব মিলিয়ে বাজার রমরমা হলেও কিন্তু একদিন জামাইকে খাওয়ানো তাই কোনো কার্পণ্য করতে রাজি নন শ্বশুর শাশুড়িরা। জামাই আদর বলে কথা। আর জামাইরাও এই একটি দিন অন্তত বলেন শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ।

Be the first to comment