রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আজ বাংলার বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখতে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সমস্ত জায়গা ঘুরে আজকের সারাদিনের কর্মসূচিগুলো নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন তিনি।

এদিন তিনি লেখেন, “আজকের জেলা পরিক্রমা যেন আমার হৃদয়ে পুণ্যযাত্রা রূপে ধরা দিল। কলকাতা থেকে চণ্ডীতলা হয়ে খানাকুল, পুরশুড়া, আরামবাগ, কামারপুকুর, রামজীবনপুর, ক্ষীরপাই, ঘাটাল, দাসপুর, কেশপুর হয়ে মেদিনীপুর। এই দীর্ঘ যাত্রায় আমার বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেমে আসেনি দু’চোখে। যাতায়াতের দু-প্রান্তে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক, দলের কর্মী, কৃষক-মজুর, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলার নারী-পুরুষ, আইসিডিএস কর্মী, আশাকর্মী, ভিআরপি, ছাত্র-শিক্ষক, প্রবীণ থেকে নবীন তাঁদের আশীর্বাদ, ভালোবাসায় আমি আবেগাপ্লুত । আমি তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।”

তিনি আরোও লেখেন, “আজ ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর পবিত্র ভূমি কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের নতুন অতিথিশালা, সঙ্গে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র এবং একটি পার্কিং জোন–এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। একটি ধর্ম অন্য ধর্মকে সহনশীলতায়, স্নেহে, শুভকামনায় একত্রিতভাবে রাখবে এটাই ধর্ম। ঐক্যের মেলবন্ধনে আবদ্ধ থাকার শিক্ষা আমি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের থেকেই পেয়েছি।”
জলের তলায় ঘাটাল, ডিভিসিকে কটাক্ষ করে মমতা লেখেন, “ডিভিসির অতিমাত্রায় জল ছাড়ায় এ রাজ্য বন্যায় প্লাবিত। তাই আজকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করলাম। ঘাটালের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য প্রতি বছর জল-যন্ত্রণার মধ্যে পড়তে হয় এই অঞ্চলের মানুষদের। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়নে আমি সংসদে বারবার সরব হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত করতে কোনওরকম উদ্যোগ নেয়নি। আমরা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু করেছি। আমার বিশ্বাস খুব তাড়াতাড়ি ঘাটালের মানুষ জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হবেন। আজ ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিলাম প্রশাসনিক আধিকারিকদের। মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিদর্শন করলাম। রাজ্য সরকার দুর্গতদের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা সুনিশ্চিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সবাইকে অনুরোধ করব একে অপরের পাশে দাঁড়াতে। আজ জলবন্দি এলাকা পরিদর্শনের পরে দুর্গতদের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করলাম। বন্যা কবলিত মানুষের সাহায্যার্থে আরামবাগ লোকসভার অন্তর্গত মায়াপুরে হুগলি জেলা (গ্রামীণ) পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি কিচেনে উপস্থিত থেকে নিজে হাতে দুর্গতদের খাবার পরিবেশন করলাম।”
সবশেষে লেখেন, “ঘাটাল থেকে মেদিনীপুরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে কেশপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে থেকে সকলকে আমি SIR নিয়ে সতর্ক করলাম। বাংলার প্রতি, বাংলা ভাষার প্রতি যে অত্যাচার নেমে এসেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে তার প্রতিবাদে আমাদের ‘ভাষা আন্দোলন’ আরও জোরালো হবে আগামীতে। বাংলা আমাদের জন্মভূমি, কর্মভূমি, পুণ্যভূমি। বাংলাকে অপমানের জবাব বাংলার মানুষ দেবেন, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”

Be the first to comment