রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- মালদার তৃণমূল নেতা তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরিকে সপরিবার প্রাণনাশের হুমকি। শুক্রবার সকাল ১০ টা ৪০ মিনিট নাগাদ ফোনে ডি কোম্পানির নাম করে বিশ পেটি (২০ লক্ষ টাকা) দাবি করা হয়। না দিলে সপরিবারে দেখে নেওয়া হবে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রথম মেসেজ করে টাকার দাবি জানানো হয়। মেসেজে বলা হয়, ‘কাল শুভে ১০ সে ১২ তক ২০ পেটি দেনা হোগা আপকো, নেহি তো তুম অর তুমহারি ফ্যামিলি মেম্বার কো টোক দেঙ্গে।’ যার মানে হল, ‘কাল সকাল ১০ টা থেকে ১২ টার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে না হলে তুমি ও তোমার পরিবারের সদস্যদের গুলি করব।’ কিন্তু মেসেজ দেখে উঠতে পারেননি বলে জানান কৃষ্ণেন্দুবাবু। তাঁর দাবি, এরপর শুক্রবার সকালে তিনি যখন তাঁর ফার্ম হাউসে নতুন শিবমন্দির নির্মাণ কাজের তদারকিতে ব্যস্ত ছিলেন তখনই একজন ফোন করে হিন্দিতে হুমকির সুরে বলে, ‘ডি কোম্পানি থেকে প্রদীপ বলছি, মেসেজ করেছিলাম, দেখেননি? মোদ্দা কথা ২০ পেটি দিতে হবে। না হলে তুমি ও তোমার পরিবার, পরণতি কী হবে ভেবে নিও, আগামীকাল সকালে রেডি থাকিস।’ কোথায় কীভাবে টাকা দিতে হবে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী পালটা তা জানতে চাইলে অব্শ্য পরিষ্কার কোনও জবাব আসেনি ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা প্রদীপ নামে ব্যক্তির তরফে। ফোনের অডিও রেকর্ডও প্রকাশ্যে এনেছেন কৃষ্ণেন্দুবাবু। যদিও সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘রোজদিন’। পুলিশকে গোটা ঘটনা জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি। পুলিশও দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। কৃষ্ণেন্দু জানান, তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
কিছুদিন আগেই ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার ওরফে বাবলাকে পিছু ধাওয়া করে দোকানে ঢুকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনার পেছনে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেসেরই মালদা শহর সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছিল, বাবলা সরকারকে খুনের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল। এরপর এবার কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরিকে সপরিবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় শহরজুড়ে ফের একবার আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরির নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। যদিও এই ঘটনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা সেই প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি জানান, পুলিশ সবটাই তদন্ত করে দেখছে।

Be the first to comment