‘পারফরম্যান্সকে সামনে রেখেই রদবদল হয়েছে’, তৃণমূলের জেলাস্তরে রদবদল নিয়ে জানালেন অভিষেক

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:-সদ্য তৃণমূল কংগ্রেসের জেলাস্তরে রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। সেই রদবদলের তালিকায় একাধিক চমক দেখেছে রাজ্য। সোমবার সেই রদবদল নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পারফরম্যান্সকে সামনে রেখেই রদবদল হয়েছে। আপাতত জেলাস্তরে হয়েছে এই রদবদল। পরবর্তীতে তা ব্লক এবং টাউন স্তরেও হবে বলে জানান অভিষেক।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে প্রকাশিত তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলের তালিকা প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, “এটি দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বর্তমানে জেলাস্তরে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা ও সকলের সঙ্গে আলোচনার পর ব্লক ও টাউন স্তর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়েই সমস্ত রদবদল হয়েছে। এটি দলের সিদ্ধান্ত।”
পদাধিকারীদের নির্বাচনের মাপকাঠি প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, “পদাধিকারীদের সমস্ত সিদ্ধান্ত কর্মদক্ষতা এবং কাজের নিবিড় মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র নির্বাচনী ফলাফল নয়, যাঁরা দলের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন, দল তাঁদের স্বীকৃতি ও পুরস্কৃত করেছে।” তিনি আরও জানান, কিছু নেতাকে জেলা থেকে রাজ্যস্তরের ভূমিকায় উন্নীত করা হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই রদবদলে বীরভূম এবং উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি পদে পরিবর্তন এনে কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল এবং উত্তর কলকাতার দায়িত্বে ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দুজনেরই সভাপতি পদ সরানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, কোর কমিটি গঠন পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ীই হয়েছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন। বীরভূমের কোর কমিটির বৈঠক হয়ে গিয়েছে, যেখানে অনুব্রত মণ্ডল কমিটিতেই আছেন। উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয় সদস্যের কোর কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে, যেখানে সাতজন বিধায়ক ছাড়াও স্বপন সমাদ্দার এবং জীবন সাহার মতো অতিরিক্ত সদস্য রয়েছেন। অভিষেকের কথায়, এতে ‘কার ক্ষমতা কমল বা বাড়ল’ এভাবে দেখা ঠিক নয়, বরং সকলে মিলে দলবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।
গত শুক্রবার তালিকা প্রকাশের পর এখনও বৈঠক না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তালিকা প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টাও কাটেনি। আপনাদের (গণমাধ্যম) প্রত্যাশা এত বেশি যে আপনারা ধরে নিয়েছেন তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠক হবে। কিছু সদস্য কলকাতায় থাকতে পারেন, আবার কেউ হয়তো নিজের জেলায়, অথবা কোনও তীর্থস্থানেও থাকতে পারেন। সবার একসঙ্গে এক ছাদের নীচে আসা দরকার বৈঠকের জন্য, আর তাতে সময় লাগে।” এজন্য ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন অভিষেক। বীরভূমের মতো উত্তর কলকাতাতেও দ্রুত বৈঠক হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
দলের সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও এদিন বিকাশভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রসঙ্গও ওঠে। এই আন্দোলনকে রাজনীতিকরণ করা উচিত নয় মন্তব্য করে অভিষেক বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের আন্দোলন করার অধিকার আছে। শুধু বাংলা নয়, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের মানুষের এই অধিকার আছে। আমি তাঁদের আন্দোলনকে ছোট করব না বা অসম্মান করব না, আমি এটা করতে পারি না।” তবে তিনি আন্দোলনকারীদের কাছে অনুরোধের সুরে বলেন, “আন্দোলন কখনও হিংসাত্মক হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে আমি কিছু ফুটেজ দেখেছি যেখানে লোকজন গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু আন্দোলন কখনও চরম বা হিংসাত্মক হতে পারে না।” মহাত্মা গান্ধির অহিংসা নীতির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে দিল্লিতে তাঁদের আন্দোলন বা রাজভবনের সামনের ধরনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চুল ধরে টেনে বের করা হলেও তাঁরা হিংসার পথ নেননি। অভিষেকের কথায়, “সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে, গেট ভেঙে বা জোর খাটিয়ে আন্দোলন হতে পারে না। এতে আন্দোলনের মূল নির্যাস নষ্ট হয়ে যায়।”
রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিষেক বলেন, “রাজ্য সরকার তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে। আমরা রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছি এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন। আজ না হোক কাল, একদিন ন্যায়বিচার অবশ্যই হবে।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*