রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- অডিও বিতর্কে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের কাছে অনুব্রতকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দিল তাঁর দল। না হলে তাঁকে শো’কজ করা হবে বলেও জানিয়েছে তৃণমূল।
এদিকে, ওই পুলিশ অফিসারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দের অভিযোগে অনুব্রতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার রাতে অনুব্রত মণ্ডলের নাম করে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবার নিয়েও অশ্রাব্য কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই অডিও ভাইরাল হতেই (ওই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি রোজদিন) জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। অনুব্রতের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব বিজেপি। উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছিল। এই আবহে শুক্রবার সকালে তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অনুব্রত মণ্ডলকে আগামী চার ঘণ্টায় ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে আজ, বোলপুর থানায় যান বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ। সেখানে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, “বোলপুরের আইসিকে ফোনে হুমকি ও গালিগালাজ করার ঘটনায় এফআইআর করা হয়েছে। আইনানুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি অডিও কী করে ভাইরাল হল সমাজমাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ২২৪ (সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও হুমকি), ১৩২ (সরকারি কর্মচারীর হেনস্থা), ৭৫ (শ্লীলতাহানি ও হেনস্থা) এবং ৩৫১ (হুমকি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রিকি আগরওয়াল।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের তরফ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, দু’জনের বার্তালাপ বাইরে কী করে তা তদন্ত করে দু’জনকে শাস্তি দেওয়া হোক। তবে পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছন, যে ফোন করে হুমকি দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ এনে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে তৃণমূলের দাবি, অনুব্রতকে ফাঁসাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই সব কাণ্ড করা হচ্ছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে অনুব্রতর গ্রেপ্তারের দাবিতে সিউড়িতে বিজেপির মহিলা মোর্চা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সমানে বিক্ষোভ দেখায়। তারাও অভিযোগ করবে বলে জানা গিয়েছে।
গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে তীব্র নিন্দা করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় – তিনি একজন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে ঠিক কি ভাষায় কথা বলছেন!’
অন্যদিকে সূত্রের খবর, অনুব্রতের চার নিরাপত্তারক্ষী ও নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা একটি গাড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে।
এই ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্যের দুর্দমনীয় এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের চাদরের তলায় কিভাবে ভয়াবহ সমাজবিরোধী ত্রাস’রা সযত্নে সুরক্ষিত রয়েছে!
“বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ”, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় – তিনি একজন… pic.twitter.com/GOoXBGgt3o
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) May 29, 2025

Be the first to comment