রোজদিন ডেস্ক : সপ্তাহের প্রথম দিনই একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরগরম সিইও দফতর। মূলত এসআইআর, মতুয়াদের সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে আজ সকাল থেকেই বিজেপি, কংগ্রেস প্রমুখ রাজনৈতিক দলের রাজ্য নেতারা সিইও দফতরে যান। অন্যদিকে শাসক দল প্রভাবিত বিএলও-দের বিক্ষোভ কর্মসূচিও চলে ওখানে।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ এসআইআর সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্নর দাবিতে সিইও মনোজ আগরওয়াল কে স্মারকলিপি পেশ করতে যান। ওখানে তখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত বিএলও সংগঠনও হাজির। তাঁরাও সিইও-কে দাবিপত্র পেশ করতে চান। বিরোধী নেতার আগমন নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তুলকালাম বাধে সেখানে। বিরোধী নেতাকে লক্ষ্য করে মুর্হুমুহু “গো ব্যাক” ধ্বনি দেন তাঁরা। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল হতে দেখা যায়।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী র অভিযোগ, টিএমসি-র মদতপুষ্ট আই প্যাকের কর্মীরা এসআইআরের ফর্ম নিয়ে জালিয়াতি করছেন। তাঁরা এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন। ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ মৃত ভোটারের নাম বাতিল, ওপার থেকে এসে এপারের মানুষ জনকে বাবা ইত্যাদি সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ইত্যাদি নিয়ে সরব হন তিনি। তাঁর আগমনে যেভাবে শাসকদলপন্থী বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখান, এতে রীতিমত ক্ষুব্ধ বিরোধী নেতা। বিএলও-রা তাঁর উদ্দেশ্যে ” চোর! চোর! ” ধ্বনিও দেন।
অন্যদিকে মতুয়াদের নাগরিক ত্বের অধিকার নিয়ে বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী, প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দলও পৃথকভাবে আজ সোচ্চার হয়েছেন। প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে মতুয়াদের একাংশ আজ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের ভোটাধিকার, নাগরিকত্ব নিয়ে সুর চড়িয়ে অধীর বাবু বলেন, ওঁরা বহু বছর ধরে এখানে আছেন। ভোট দিয়েছেন। শাসক দল ওঁদের শুধু আশ্বাস ছাড়া কিছু দেয়নি। বিজেপিও ওঁদের ভুল বোঝাচ্ছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভংকর সরকারের নির্দেশে এক প্রতিনিধি দল আজ সিইও দফতরে গিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত-র সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দ্বিচারিতা করছে বলে অভিযোগ করেন। এই সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করার কোন অপচেষ্টা হলে কংগ্রেস রুখবে বলে হুঁশিয়ারি ও দেন। আশুতোষ চ্যাটার্জি, অমিতাভ চক্রবর্তী, রোহন মিত্র প্রমুখ প্রতিনিধিরা এসআইআরের সময়সীমা এক মাস বৃদ্ধি করারও দাবি করেন। ভোটার তালিকা থেকে মৃত, স্থানান্তরিতদের নাম আপডেট করার দাবি করেন। বিএলও-দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বাড়ানোরও প্রতিবাদ করেন তাঁরা।

Be the first to comment