নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরে তৃণমূল প্রতিনিধিরা, একজন ভোটারের বাদ পড়লে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী ও আসন্ন শুনানি পর্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে একাধিক আপত্তি ও প্রস্তাব তুলে ধরল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তিন মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুলক রায়, দুই সাংসদ পার্থ ভৌমিক ও বাপি হালদার। শশী পাঁজা বলেন, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হয়েছে ১৬ তারিখ। অথচ ১৭ তারিখ থেকে যে শুনানি শুরুর কথা ছিল, তা শুরুই হয়নি। এখন জানানো হচ্ছে ২৭ তারিখ থেকে শুনানি শুরু হবে। তাঁর প্রশ্ন, ১৬ জানুয়ারি থেকে এক মাসের যে শুনানির সময়সীমা ধরা হয়েছে, তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১১ দিন নষ্ট হয়ে গেল। ফলে বাকি সময় অত্যন্ত অপ্রতুল। শুনানির কাঠামো নিয়েও আপত্তি তোলে তৃণমূল। দলের বক্তব্য, ডিএম, এসডিও বা বিডিও অফিস পর্যন্ত প্রত্যেক ভোটারকে ডেকে আনা কার্যত ভোটারদের উপর অন্যায় চাপিয়ে দেওয়ার সমান। বড় বয়স্ক মানুষ, মহিলা, পরিযায়ী শ্রমিক, দরিদ্র ভোটারদের জন্য ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে পৌঁছনো অত্যন্ত কষ্টকর। পাহাড়, সমতল, নদী, দ্বীপ—পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বাস্তবতা মাথায় না রেখেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
এই পরিস্থিতিতে শুনানিকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করার প্রস্তাব দেয় তৃণমূল। শশী পাঁজা বলেন, ভোটগ্রহণ যদি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বা স্থানীয় বুথে করা যায়, তা হলে শুনানিও সেই সমস্ত কাছাকাছি জায়গাতেই হওয়া উচিত। এতে ভোটারদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রস্তাব, যেহেতু বিএলওরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, তাই ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সম্পর্ক সংক্রান্ত ছোটখাটো গরমিল বা সফটওয়্যারের সমস্যাগুলি বিএলও স্তরেই মেটানোর ক্ষমতা দেওয়া হোক। এতে এক কোটি ৩৪ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার চাপ কমবে। তৃণমূল নেতারা প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র আনম্যাপড ভোটারই নয়, যাঁরা ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে সম্পর্ক দেখাতে পেরেছেন, তাঁদেরও কেন শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। দলের দাবি, এতে অকারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট এজেন্সিকে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ভাবে পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। সেই এজেন্সির ভূমিকা, উদ্দেশ্য এবং তারা নতুন করে কোনও সমীক্ষা চালাবে কি না—সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটাই আবেদন জানানো হয়েছে, ভোটারদের যেন কোনও ভাবেই হয়রানির শিকার হতে না হয়। ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে শুনানি ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত করার দাবি জানিয়ে প্রতিনিধি দলের কাছে নিজেদের সমস্ত আপত্তি ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে শাসক দল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*