রাজ্যের গরিব মানুষের হাতে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে আট দফা দাওয়াই খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : পালাবদলের পর একের পর জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছে বাংলার বিজেপি সরকার। এবার খাদ্য দফতরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ঘুঘুর বাসা ভেঙে রাজ্যের গরিব মানুষের হাতে রেশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে ততপর হল রাজ্য প্রশাসন। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি বলেন, দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন এই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করবে। সেই সঙ্গে যথার্থ গরিব মানুষ যাতে রেশনে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পান সেটাও আমরা দেখবো। সেই জন্য সরকারে এসেই আমরা কাজ শুরু করেছে। এরজন্য কতগুলি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী৷ এদিন তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।

প্রথমতঃ উপভোক্তারা নিয়মিত খাদ্যশস্য পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা, সেই সঙ্গে তার গুণগত মান ও পরিমানের দিকে নজর রাখা। চাল, গম, ইত্যাদির গুণমান বজায় রাখতে নিয়মিত চলবে নজরদারি। ওজনে কম, নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী, এসব একেবারে বরদাস্ত করা হবে না।

প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নিয়মিত নজরদারি ও মিডলম্যানদের ভূমিকা চিরতরে নির্মূল করা হবে। সেই সঙ্গে কৃষকদের প্রাপ্য অর্থ ঠিক সময়ে দেওয়ার ওপরও চলবে কড়া নজরদারি।

রাইস মিল, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের গুদামে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হবে। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে থাকছে কঠোর ব্যবস্থা। এই সরকার কাউকে রেয়াত করবে না। গুদামগুলি মজুত খাদ্যের মান, পরিমান, মজুতের রেকর্ড, বন্টনের পদ্ধতি সব কিছু নিয়ম মেনে হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত দেখা হবে।

জেলা পর্যায়ে রেশন দোকানগুলিতে নিয়মিত ও সারপ্রাইজ ভিজিট চালু থাকবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

অন্তোদ্যয় অন্ন যোজনাকে আরও শক্তিশালী করা। এই প্রকল্পে প্রকৃত গরিব ও প্রান্তিক মানুষদের আরও বেশি করে সামিল করা। যারা এখনও এর বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে এই প্রকল্পে নিয়ে আসা। সেই সঙ্গে তুলনামূলক ভাবে স্বচ্ছল, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী পরিবারগুলির মতো ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা ও প্রকল্প থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়ার কাজ চলবে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফর্টিফায়েড রাইস নিয়মিত বন্টন করা হচ্ছে কিনা তার ওপর নজরদারি করাও চলবে।

গত ৫ বছরে ফর্ম ১০-এ অন্তর্ভুক্ত উপভোক্তাদের তথ্য আরও একবার যাচাই করা। ফর্ম ১০ থেকে ফর্ম ৮-এ রূপান্তরিত আবেদনপত্রগুলিও পুনরায় আরও একবার যাচাই করা হবে। এই কাজে কোনও অনিয়ম, কোনও ভুয়ো বা অযোগ্য উপভোক্তা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারন মানুষের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ও পদ্ধতিকে জোরদার করা হবে। সেই সঙ্গে গতি আনা হবে অভিযোগের নিষ্পত্তিতেও। শক্তিশালী করা হবে জনসংযোগ ব্যবস্থাও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*